The Covid-19 pandemic has affected almost everybody across the world, yet its effects are especially intense for individuals in neediness. The nature of the Covid-19, there is a real risk of repeated spikes and possibly repeated and localized lockdowns. These have the potential to disrupt the recovery process intermittently. The present study aims to
explore the specific operational and financial difficulties faced by the MFIs during Covid-19 period. It highlights the
changes in the portfolio at risk (PAR) of the MFIs due to the crisis and the operational and crisis management
measures adopted by the MFIs as a precaution against Covid-19 impacts. Finally, the study suggests supportive
measures that can be adopted for the MFIs to carry out their mission of serving the poor and disadvantaged in a
more elective manner in the post Covid-19 period.

Financial and Operational Challenges faced by MFIs:

Portfolio at Risk (PAR) of MFIs: Among the major issues, the developing portfolio in danger (PAR) is the most prominent financial challenge that they have experienced because of the pandemic. The PAR is determined as the proportion of the volume of the advance portfolio that is past due for a specific period (generally taken as surpassing 30 days) and the absolute advance portfolio. All MFIs size classes have been confronting rising PAR due to
the Covid-19 pandemic (Figure 1). Around 93% of the example MFIs demonstrates that their PAR levels have risen strongly during the Covid-19 period thought about with their pre Covid-19 levels. Among the exceptionally enormous MFIs, the PAR has dramatically increased for 50%; while for the rest, PAR has multiplied. For all enormous MFIs, the PAR has multiplied. Then again, among the medium MFIs, 59% and, among the little MFIs, 55% have encountered a dramatically increasing of their PAR; while 35% of both little and medium MFIs report a multiplying of PAR over their pre Covid-19 levels. Just 10% of the little MFIs have generally unaltered PAR.

Operational Difficulties of MFIs: More than 85% of the MFIs have difficulties of their staff in gathering with the borrowers at the field, while 88% deal with issues in conveying nonfinancial administrations, for example, preparing and business improvement, wellbeing, instruction and different administrations. Around 83% of the MFIs report confronting difficulties in gathering advance reimbursements, while 73% has difficulties in dispensing new credits. It very well might be seen that the difficulties experienced by the MFIs are firmly connected with the financial reasonability and supportability of the MFIs. In that capacity, these operational difficulties have likewise set off other significant short-and long haul financial challenges for all MFIs including rising PAR, difficulties in portfolio and hazard the board, mass withdrawal of investment funds by the individuals, and deteriorating liquidity emergency.

Financial Difficulties of MFIs: Irrespective of MFIs size category, most surveyed MFIs face financial difficulties due
to the pandemic (Figure 3). About 88 per cent of the MFIs report rapidly rising PAR, while 85 per cent face
deterioration in outstanding loan portfolio and 80 per cent face the problem of high rates of savings withdrawal by
the borrowers. Around 78 per cent of the surveyed MFIs face difficulties in repaying their borrowed fund to the
banks and/or other borrowing agencies. More than 73 per cent of the MFIs have inadequate equity capital to cope
with the Covid-19 crisis. No doubt, these financial difficulties represent a challenge for the entire microfinance
sector for both the short and medium terms.

Covid-19 Challenges: Path from Crisis to Recovery
The survey shows that more than half of the MFIs have initiated discussion with the regulatory authority (MRA) and
apex organization (PKSF) to revise/relax rules and regulation to meet the pandemic situation. It is seen that most
MFIs acted on their own to face the Covid-19 challenges since the beginning of the pandemic. Around 51 per cent
of the MFIs revised their loan distribution policy, mostly by the very large and large MFIs. The medium and small
MFIs could exercise little leverage in revising their loan distribution policies. Nevertheless, most of them
implemented restructuring in loan repayments. Almost 90 per cent of the medium and small MFIs have
restructured the loan portfolio for the benefit of the clients.

Source- http://inm.org.bd/wp-content/uploads/2020/11/InM-Covid-19-Research-No-4-2210.2020.pdf

 ‘সর্বাত্মক’ লকডাউনে উপার্জন হারানো দরিদ্র ব্যাক্তিদের সরকারী অনুদান হিসাবে আড়াই হাজার টাকা করে দিবে সরকার। মোট ৩৫ লাখ পরিবার এ অনুদান পাবে । গত বছর করোনাভাইরাসের শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে এক হাজার ২৫৮ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন পৌনে ৯০০ কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছিল। পরে তালিকায় অনিয়ম থাকায় কর্মসূচিটি সাময়িক স্থগিত হয়। এবার ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার জন্যে ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

সে সময় নগদ অর্থ সহায়তার প্রয়োজন আছে এমন ৫০ লাখ পরিবারের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সরকারের মাঠ-পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই তালিকা তৈরি করেন। তালিকায় ছিলেন— রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষক, দোকান কর্মচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক।

গত বছরের ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী এই অর্থ বিতরণ কাজের উদ্বোধন করেন। তবে, টাকা বিতরণে অনিয়ম ও তালিকায় অনেক সচ্ছল ব্যক্তির নাম থাকায় মাঝপথে এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে, অর্থ বিভাগ সেই তালিকা কয়েক পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে ১৪ লাখ ৩২ হাজার নাম বাদ দেয়। এরপর ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৩ জনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মহামারি মোকাবিলায় সরকারের জরুরি সহায়তা তহবিলের ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে এই ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ ও মৃত্যুহার কমাতে গত বুধবার সকাল থেকে ‘সর্বাত্মক’ লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর ফলে ঘরে বসে থেকে কঠিন সময় পার করছেন গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

দিনকে দিন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। গতকাল দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া, একদিনে ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চলমান পরিস্থিতিতে সরকার বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

গত ১১ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে এক বাজেট-পূর্ববর্তী বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল— অতিদরিদ্র; যারা লকডাউনে কঠিন সময় পার করছেন, তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতিতে অর্থ সহায়তার কথাও।

পহেলা বৈশাখের দিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তার সরকার সব সময় গরিব মানুষের পাশে আছে। তিনি আরও জানান, লকডাউনে গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তায় সব ধরনের উদ্যোগ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলে রেখেছেন।

অন্যান্য সহায়তা

নিম্ন আয়ের মানুষদের নগদ অর্থ সহায়তা ছাড়াও চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে কালবৈশাখীতে ক্ষতিগ্রস্ত বোরা চাষিদের অর্থ সহায়তা দেবে সরকার। গত সপ্তাহের ঝড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাওর ও সমতলভূমির প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ফসল নষ্টের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে এক লাখ কৃষককে এককালীন নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেবে সরকার। এ জন্য গত সপ্তাহে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে কৃষকদের ফোন নম্বরসহ একটি তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। তালিকা তৈরি হয়ে গেলে অর্থ বিভাগ তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়াও, টেস্ট রিলিফ (টিআর), জেনারেল রিলিফ (জিআর), ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) ও ভালনারেবল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট (ভিজিডি) কর্মসূচির জন্যে অতিরিক্ত ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

লকডাউনে গ্রামীণ জনগণের সাময়িক অর্থ সহায়তার উদ্দেশ্যে এসব অতিরিক্ত ফান্ড চালু করা হয়। এসব প্রকল্পের জন্য মূল বরাদ্দ ছিল এক হাজার ২১৬ কোটি টাকা।

টিআর কর্মসূচির আওতায় গ্রামাঞ্চলে কর্মহীন মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে ক্ষুদ্র পুনর্বাসন প্রকল্পগুলো। এ ছাড়া, ভিজিএফের আওতায় অতিদরিদ্র মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে লকডাউনের সময় দরিদ্র মানুষদের খাদ্য সহায়তায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এই টাকা জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করবে। ত্রাণ হিসেবে চাল, মসুর ডাল ও তেল বিতরণ করা হবে।

যদি চলমান ‘সর্বাত্মক’ লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়, তাহলে দেশের ১১ সিটিতে ভর্তুকি দিয়ে ৭৫ হাজার টন চাল খোলা বাজারে বিক্রি করা হবে। ১০ টাকা কেজি দরে এই চাল বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতির কিছুটা উপশম করা যাবে।

পাশাপাশি সরকার পরিচালিত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভর্তুকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করবে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে একটি বড় সমস্যার নাম হলো বকেয়া । বকেয়া পড়লে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অনেক ক্ষতি হয় । তাই যারা ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাদের সকলের জা না প্রয়োজন বকেয়া পড়ার কারন ও রোধ করার কৌশল। তাই যারা ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে বা এনজিও তে কাজ করছেন কিংবা কাজ করতে আগ্রহী তাদের প্রত্যেকের জানা উচিত বকেয়া পড়ার কারন ও রোধ করার কৌশল সমূহ।

ভিডিও টি দেখুন-

মাইক্রোফাইন্যান্স এর অনুপাত বিশ্লেষণ অতি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। তাই এই ভিডিওতে মাইক্রোফাইন্যান্স এর বেসিক কিছু রেশিও নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি একটি মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সার্বিক মূল্যায়ন করতে চান তাহলে অবশ্যই রেশিও এনালাইসিস সম্পর্কে ভালভাবে জনতে হবে। Ratio Analysis for microfinance institutions in bangladesh এই ‍ভিডিওটির মাধ্যমে আপনি রেশিও এনালাইসিস এর প্রাথমিক ধারনা পাবেন। আরও বিস্তারিত জানতে হলে ভিজিট করুন website- https://learnmicrofinance.com/ Facebook page – https://www.facebook.com/learnmicrofinance ভিডিওটি ভাললাগলে বা উপকারে আসলে কমেন্ট, শেয়ার ও লাইক করুন। #microfinance_institutions_in_bangladesh #microfinance

ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জীবন বাজি রেখে গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করেছে। ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে গ্রাহকদের করোনা মোকাবেলার কৌশল সম্পর্কে অবহিত ও সচেতন করেছে। নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে ত্রান ও স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণের কাজ করেছে। মাইকিং করে জনগনকে সচেতন করেছে। নিজেদের ১ দিনের বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে দিয়েছে। ঋণ আদায় ৩ মাস বন্ধ ছিল। সরকারের অনুমোদন ক্রমে আদায় শুরু করলেও কিস্তির জন্য কোনও চাপ প্রয়োগ করে নি । গ্রাহকের সঞ্চয় সময়মত ফেরত দিয়েছে। যেখানে অনেক বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন সঠিক ভাবে দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেখানে এনজিও এমএফআই প্রতিষ্ঠানগুলো করোনার বন্ধের সময় কর্মীদের বেতন ভাতাদি প্রদান করেছে। সরকারের পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্ট লাইন সৈনিক হিসাবে অদ্যবধি কাজ করে যাচ্ছে। তবুও এই সেক্টরের অবদানের স্বীকৃতি কোথায় ?

বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমন ধরা পড়ে ৮ মার্চ ২০২০। অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও এর বিরুপ প্রভাব পড়ে। আমাদের বন্যা, খরা, তুফান এর মত প্রকৃতিক দূযোর্গ মোকাবিলা করার মত অভিজ্ঞতা থাকলেও এধরনের মহামারির কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই মহামারির শুরুতেই কি করা উচিত এ নিয়ে অন্যান্য অনেক দেশের মত আমরাও দিশেহারা হয়েছি। তবে ধীরে ধীরে আমরা উল্লেখিত কাজ গুলো নিয়মিত করে যাচ্ছি।

যোগাযোগ: করোনার শুরুতেই সকল প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সাথে স্বাস্থ্য সচেতন ও করোনা প্রতিরোধে কি করা উচিত সেই বিষয়ে ফোনে, সরাসরি (স্বাস্থ্য বিধি মেনে) যোগাযোগ রক্ষা করে পরামর্শ প্রদান করেছে। যে কারনে গ্রাহকেরা বাড়িতে থেকেছে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলেছে। ফলে শুরুতেই ভাইরাস ছড়াতে পারে নি এবং ব্যাক্তিগত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়ে একটি প্রতিষ্ঠানিক রুপ এসেছে।

লিফলেট বিতরণ, হ্যান্ড ওয়াশ ডিভাইস স্থাপন ও মাইকিং: গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগনের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে কার্যকরি হয়েছে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার। যেটি প্রায় সকল এনজিও করেছে।

ত্রান ও স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ: প্রতিটি এনজিও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রান ও স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের ত্রান তহবিলে নগদ অর্থ প্রদান করেছে।

হাসপাতাল খোলা রাখা: করোনা কালে এনজিও পরিচালিত হাসপাতালগুলো খোলা রাখা হয়েছিল। যা এই সেক্টরের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

স্যাটেলাইট ক্লিনিক: অনেক এনজিও স্যাটেলাইট ক্লিনিক পরিচালনা করে অদ্যবধি গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

ঋণ আদায় বন্ধ: করোনা কালে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রথম তিন মাস ঋণ আদায় বন্ধ রেখেছে।

সঞ্চয় ফেরত: সরকারের কাজ করার অনুমোদন পাওয়ার পর সদস্যদের ঋণ আদায় ঐচ্ছিক থাকলেও নিয়মিত সঞ্চয় ফেরত দিয়ে দিয়েছে।

ঋণ বিতরণ ও ঋণের শ্রেনী করন না করা : প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গ্রামীন অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত জামানত ছাড়া ঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। সরকারী প্রনোদনা ঋণও স্বল্প লাভে বিতরণ করছে।

সমৃদ্ধি প্রকল্প: সমন্বিত উন্নয়নের একটি কার্যকরি উপায় হচ্ছে পিকেএসএফ এর সমৃদ্ধি কর্মসূচি। এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে 202 টি ইউনিয়নে কাজ চলমান রয়েছে।

সামাজিক পূজি: এই করোনা মহামারিতে এনজিও কর্মীর মাধ্যমে যোগাযোগ করার কারনে গ্রামের যুবারা একত্রিত হয়ে ত্রান বিতরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি সহ নানা বিধ কাজ করেছে। যা সামাজিক পূজি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

করোনা পরবর্তী ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম আবারও ঘুরে দাড়াচ্ছে। চলছে টিকা দান কর্যক্রমের প্রস্তুতি। যে সকল মানুষ করোনার কারনে নতুন করে পিছিয়ে পড়েছে তাদের নিয়ে কাজ করেত হবে। কৃষি ও গ্রামীন অর্থনীতিতে খরচ করতে পারলে অর্থনীতি আবারও চাঙ্গা হবে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। এনজিও এমএফআই গুলো নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যাদের অবদান অনেক।

বি: দ্র: ফ্রন্ট লাইন সৈনিক হিসাবে টিকা প্রাপ্তিতে এনজিও কর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।

লেখক: মো: আজিম রানা, উন্নয়ন কর্মী, সহ: পরিচালক, ভার্ক।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

এক কুমিরের একবার শখ হলো যে সে তার বাচ্চাদের শিক্ষিত বানাবে। এখন শিক্ষিত যে বানাবে সে শিক্ষক পাবে কোথায়। চিন্তা করতে করতে তার মনে পরল শিয়ালের কথা। শিয়ালকে তো প্রাণী জগতের সবাই পণ্ডিত বলে থাকে। সেজন্য সে ঠিক করল যে শিয়ালের কাছেই তার ছানাদের পাঠাবে। সে পাঠাল তার ৮ ছানাকে। এদিকে নাদুস নুদুস ছানা দেখে তো শিয়ালের মুখে লোল পড়ার অবস্থা। তো সে প্রতিদিন একটা করে ছানা খেতে থাকল। আর কুমির তার বাচ্চাদের মাঝে মাঝে দেখতে চাইলে সে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা বাচ্চাকে বারবার দেখিয়ে বুঝ দিত যে ৮ টি বাচ্চাই আছে। এদিকে কুমিরও নিশ্চিতভাবে বসে থাকে আর আরেক দিয়ে তার একটা একটা করে বাচ্চা সাবাড় হতে থাকে।

এখন এই রুপক গল্প টাকে আমরা যদি ক্ষুদ্র ঋণের প্রেক্ষিতে দেখতে চাই, তাহলে কুমির হলো প্রতিষ্ঠান, শিয়াল হলো সদস্য, বাচ্চা হলো টাকা আর বাচ্চাকে শিক্ষিত করা হচ্ছে সেই প্রকল্প যার জন্য আপনি ঐ সদস্যকে টাকা দিয়েছেন।

এখন আসুন আমরা দেখি যে আমরা মূলত ঋণ টা কেন দিই। সেটা কি শুধুমাত্র আমাদের ঋণস্থিতি বা Loan Outstanding বাড়ানোর জন্য নাকি ঐ সদস্য এর প্রকৃত উন্নয়নের জন্য যাতে করে সে তার ঐ প্রকল্পে উন্নয়নের মাধ্যমে নিজের ও তার পরিবারের উন্নয়ন সাধনের পাশাপাশি  ঐ প্রকল্পের জন্য পরবর্তীতে আরও বেশি ঋণ নিতে পারে এবং এতে করে ঐ সংস্থার ঋণ স্থিতি আরও বৃদ্ধি পায় তার জন্য। এখন যদি সংস্থা ভাসা ভাসা বা সঠিক ভাবে চেক না করে একবার ঋণ দিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে কুমিরের মত করে মনিটরিং করে তাতে একদিকে ঐ লোকের প্রকৃত উন্নয়ন তো হবেই না বরং সে শিয়ালের মত করে সব টাকা খেয়ে ফেলবে। তখন না হবে কুমিরের ছানা শিক্ষিত অর্থাৎ না হবে প্রকল্পের কোন সঠিক উন্নয়নের মাধ্যমে সদস্যর উন্নতি অপরদিকে না থাকবে কুমিরের বাচ্চা অর্থাৎ টাকা টা পুরো জ্বলে যাবে। সেই টাকার কোন Productivity থাকবে না।

একটি মানুষের আর্থিক উন্নয়নের যে মূলমন্ত্রের জোরে এই সকল ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা ঋণ দিয়ে থাকে সঠিক মনিটরিঙের অভাবে সেটি বরং হয়ে যাচ্ছে বোঝার ন্যায়। এভাবে ঋণ দেয়ার পর ঠিক মত ঋণ প্রকল্প মনিটরিং হয় না বলেই একসময় এই ঋণের টাকা গলার কাটার মত বেজে থাকে। না পারে উগরাতে না পারে গিলতে। অপরদিকে যে কর্মী ঋণ দেয় সে তো পাগলের মত টাকা আনার জন্য ব্যস্ত থাকে। এভাবে এক দিন দুই দিনের মাথায় শুরু করে খারাপ ব্যবহার। আর ঋণ সংস্থার নাম হয়ে যায় রক্তচোষা। এভাবেই রেপুটেশন নষ্ট হচ্ছে এই সকল ঋণ প্রতিষ্ঠানের।

হ্যাঁ, আপনারা বলতে পারেন ব্যাংক কি এত খোঁজ নিয়ে বা এত মনিটরিং করে ঋণ দেয়? যদি তাই না দেয় তবে আমরা কেন দিব?? ভাই, ব্যাংক তো নিজেকে উন্নয়ন সংগঠন বলে দাবি করে না, কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী এই সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিন্তু নিজেদের উন্নয়ন সংগঠন বলে কাজ করে এবং তাঁদের মূলমন্ত্র কিন্তু তাঁদের সদস্য দের সকল ধরণের সমন্বিত উন্নয়ন সংগঠিত করা। তাছাড়া ব্যাংক তো মূলত তাদেরকেই ঋণ দেয় যারা আর্থিকভাবে মোটামুটি সচ্ছল বা যারা তার এই ঋণ শোধ করতে পারে বা ঋণের পরিবর্তে কিছু মর্টগেজ রাখতে পারে। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মূল টার্গেট গ্রুপ কিন্তু ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা মূলত ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারত না বা যাদের মর্টগেজ রাখার মত তেমন কোন সম্পত্তি ছিল না। ক্ষুদ্র ঋণ তো এভাবেই তাদেরকে একটু একটু করে ঋণ প্রদান করে, বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং ঋণ দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে উন্নত অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করত।

কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাঁদের এই মূলনীতি থেকে দূরে সরে আসার জন্য আদতে যা ছিল উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠান এখন হয়ে যাচ্ছে তা মানুষের জন্য গলার কাঁটা। অনেক ক্ষেত্রেই শুধু মনিটরিং এর অভাবের জন্য এই সকল প্রতিষ্ঠান হচ্ছে উন্নয়নের স্থানে অবনতি কারী প্রতিষ্ঠান যা কিন্তু একটি সতর্ক সংকেত।

এখন কিন্তু ব্যাংক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কে বিভিন্ন ঋণ দিচ্ছে। অনেক ক্ষুদ্র ঋণ  প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও এখন ব্যাংক খুলেছে। কিন্তু এই সকল ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি শুধুমাত্র তাঁদের ব্যবসায়ের খাতিরে ঋণ স্থিতি বাড়ানোর জন্য এভাবে মনিটরিং না করে ঋণ প্রদান করতেই থাকে তবে তা এই সকল প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে আরও বহুগুনে হ্রাস করতে পারে। এর থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কয়েকটি মূল ঋণ প্রদান প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ এর তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন ও নিয়মিত বিরতিতে প্রকল্প মনিটরিং এর মাধ্যমে পরবর্তী ঋণের রাস্তা সুগম করা। এতে করে একদিকে যেমন এই সকল ঋণ প্রদানকারী সংস্থার জনপ্রিয়তা ও ব্যবসার ক্ষেত্র বাড়বে অপরদিকে সদস্যদের আর্থিক উন্নতি সম্ভব।

লেখক
মাহ্‌দী যুবায়ের
বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেকচারার- পৌরনীতি ও সুশাসন- ইউনুছ খান মেমোরিয়াল কলেজ, শামুরবাড়ি,লৌহজং,মুন্সিগঞ্জ।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

উন্নয়ন কার্যক্রম কিভাবে শুরু হয় ?

স্বরে “অ” তে ঐ “অজগর” ……

এক লোক দিগম্বর হয়ে কাপড় ছাড়া রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছে। এই দেখে আরেক লোক জিজ্ঞেস করলেন যে ভাই আপনি এমনে কাপড় না পরে দৌড়াদৌড়ি করছেন কেন? লোকটি করুণ মুখে উত্তর দিল “ ভাই, আমি কাপড় পড়ার জন্য নিরিবিলি একটা জায়গা খুঁজছি” 

কৌতুকটা পড়ে যাদের সেন্স অব হিউমার খুব ভাল তারা সবাই নিশ্চয় হাসছেন, যাদের সেন্স অব হিউমার ভাল না, তাদের কথা অবশ্য ভিন্ন। যাই হোক আমি হাস্যরসের একটু বাইরে গিয়ে এই কৌতুকটাকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি।

 Priority বলে একটা বিষয় আছে, অর্থাৎ প্রথমে কোন কাজটা করা উচিত। কাপড় পড়ার জন্য যেমন নিরিবিলি স্থান দরকার এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি উপরের কৌতুকের পরিস্থিতিতে আগে কাপড় পড়াটা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে কেউ আমাকে কাপড় পড়ার সময় দেখছে সেই চিন্তা করার আগে আমাকে সবাই কাপড় ছাড়া দেখছে সেই চিন্তাটাই আগে আসা প্রয়োজন, তারপর না গোপনে কাপড় পড়ার প্রয়োজনীয়তা।

আমরা যারা বাঙালি আছি, তারা যে যেরকমই শিক্ষিত হোক না কেন, মনে করি কেউ পঞ্চম শ্রেণী পাশ, কেউ এস এস সি, কেউ আবার গ্র্যাজুয়েট আবার কেউ কেউ হন পি এইচ ডি হোল্ডার। যে যাই হোক না কেন, সবার পড়াটা কিন্তু শুরু হয়েছে সেই স্বরে “অ” তে ঐ “অজগর” থেকেই।

মূল কথায় যাবার আগে এই ধরণের তবলার ঠুক ঠাকের কারণ হল আপনি যার যেরকম উন্নতির ডিজাইন ই করেন না কেন সেই ডিজাইন শুরু হতে হবে একদম বেসিক থেকে। অর্থাৎ শুরু করতে হবে প্রথম থেকে। যেখানে প্রথমেই কাপড় পড়ার প্রয়োজনীয়তা সেখানে যদি আপনি কাপড় পড়ার জন্য নিরিবিলি জায়গা খুঁজতেই ব্যস্ত থাকেন তাহলে কিন্তু হবে না। এটি খুব ই সিম্পল ব্যাপার যে, আপনি গ্র্যাজুয়েশন ই করেন অথবা পি এইচ ডি আপনাকে সবার প্রথমে আপনাকে স্বরে “অ” তে ঐ “অজগর” পড়েই কিন্তু আসতে হবে, নাহলে কিছুই সম্ভব না।  

এখন প্রশ্ন টা হচ্ছে উন্নয়েনর জন্য হোক সেটা একটি মানুষ, একটি পরিবার অথবা একটি প্রতিষ্ঠান, সেইখানে স্বরে “অ” টা আসলে কী।

এই ক্ষেত্রে আমার অভিমত হচ্ছে উন্নয়নের প্রথম সিঁড়ি টা হল নিজের বা নিজেদের সামর্থ্যের উপর বিশ্বাস। “ আমি / আমরা পাড়ব” এই বিশ্বাস নিয়ে আসা। একটি মানুষ হল অমিত সম্ভাবনার দুয়ার। একটি মানুষ যতই জ্ঞানী এবং দক্ষ হোক না কেন তার যদি নিজের সামর্থ্যের উপর পুরোপুরি বিশ্বাস না থাকে তাহলে সে তার সেই জ্ঞান অথবা দক্ষতা কাজে লাগাতে অক্ষম। আবার একজন কম জ্ঞানী এবং কম দক্ষ লোকেরও যদি নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বিশ্বাস থাকে, নিজের ভিতর যে অমিত সম্ভাবনা সেটি বিকশিত করতে পারেন তবে সে তার কম দক্ষতা আর কম জ্ঞানের ঘাটতি খুব সহজেই দূর করতে পারে।

যত গুলো পরিবার নিয়ে স্টাডি করলাম তারা এবং তারা ছাড়া আরও যেসব অনুন্নত পরিবার রয়েছে তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রথম যে উন্নয়ন ডিজাইন টা প্রয়োজন তা হোল নিজেদের ভিতর এই মানসিক শক্তি টা নিয়ে আসা যে আমরাও পারব। এই বিশ্বাস টা গড়ে তোলা যে, আমরা সৃষ্টির সেরা জীব, আমাদের মতই মানুষরাই যদি অসাধ্য সাধন করতে পারে তাহলে আমরা কেন পারব না।

যতক্ষণ না পর্যন্ত এই বোধ আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি অর্থনৈতিক সাহায্যই দেন, অথবা কারিগরিক জ্ঞান, অথবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন, তার অথবা তাদের উন্নতি করা কঠিন হয়ে যাবে।

উন্নয়নের প্রায়োরিটির প্রথম বিষয় টাই হল মানুষের ভিতরে অন্তর্নিহিত যে অসীম ক্ষমতা, যে অমিত সম্ভাবনা বিরাজমান সেইটি পূর্ণরূপে বিশ্বাস করা, যেটি থাকলেই সে অথবা তারা নিজেদের বাস্তবিক সামর্থ্যের সবটুকু প্রকাশ করে, সবতুকু দিয়ে তার বাস্তব উন্নয়ন করতে পারবে।

প্রতিবেদনের সূচনাটা করেছিলাম একটি কৌতুক দিয়ে, শেষটা করছি এরকমই আরেকটা কৌতুকের বিশ্লেষণ দিয়ে।

এক লোক সবসময় সব খানে লেট করে যান। প্রোগ্রামে, অফিসে বাজারে সব জায়গায় লেট করে যাবার অভ্যাস উনার। এই নিয়ে তার স্ত্রী মহা ক্ষিপ্ত। তো একদিন তিনি অফিস থেকে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলছেন “ জান, আজকে ৫ মিনিট দেরী করে অফিসে যাবার জন্য বেঁচে গেছি। আমি যাবার ঠিক ৫ মিনিট আগেই অফিসে আগুন লেগে আমার রুমের সবাই মারা গেছে। বস সবার পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন” জবাবে স্ত্রী বলছেন, “ দেখেছ, তোমার লেট করার অভ্যাসের জন্য আজকে আমাদের ১০ লক্ষ টাকা মিস হয়ে গেল”।

এই কৌতুক টা পড়েও যদি কেউ না হেসে থাকেন তবে অতি সত্বর ডাক্তার দেখান উচিত। তবে উন্নয়ন কর্মী দের জন্য একটি সুন্দর উদাহরণ হোল এই কৌতুক। ১০ লক্ষ টাকার সাময়িক উন্নয়ন নয়,সঠিক উন্নয়ন করার জন্য প্রয়োজন স্বামীর মতন স্থায়ীত্তশীল উন্নয়ন। হোক না সেই স্বামী একটু লেট লতিফ  টাইপ, কী বা ক্ষতি এসে যাই তাতে!!!!!

লেখক
মাহ্‌দী যুবায়ের
বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেকচারার- পৌরনীতি ও সুশাসন- ইউনুছ খান মেমোরিয়াল কলেজ, শামুরবাড়ি,লৌহজং,মুন্সিগঞ্জ।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

“কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেই বন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ শিল্প “

– শেখ মঈনুর রহমান

করোনা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় দফা বন্যা ভাসছে দেশের উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের ৩১ টি জেলার ৪০ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানি এখন রাজধানীর চতুর্পার্শ্বের চারটি নদীর বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বালু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বাঞ্চলের নিম্ন এলাকাুমুহ প্লাবিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান দেশের ভেতরে এবং পশ্চিমবঙ্গে যে বৃষ্টিপাত ঝরিয়েছে এবং মুম্বাইয়ে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের বৃষ্টির পানি নেমে আসায় দেশের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে এই মূহূর্তে ভারত ফারাক্কাসহ তার সব বাঁধের গেট খুলে দেয়ায় এ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এরই সাথে বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাড়ি-ঘরসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

এনজিওসমূহ হতে ঋণ নিয়ে ব্যবসা, বাণিজ্য, কৃষি উৎপাদন, হাঁস মুরগির ও গবাদি পশুর খামার প্রতিষ্ঠাকারি অসংখ্য মানুষ সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারীর মধ্যে জেলা শহর এবং গ্রামের লাখ লাখ মানুষ ক্ষেতের ফসল, গরু,ছাগল, হাঁস মুরগির খামার, মাছের খামার, শিল্প, সকল ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়ে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আগামী ঈদুল আযহা কে উপলক্ষ্য করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে। বিগত বৎসরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী একমাত্র কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই দেশে ৪০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। দুঃখজনকভাবে সত্যি হল, করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কারনে এবছর অনেকেই গরু কোরবানির দেওয়া থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখবেন অথবা এখন পর্যন্ত দ্বিধাগ্রস্থ। একই সাথে সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানীর পশুর হাট পরিচালনা করার জোর তাগিদ রয়েছে। করোনা ভাইরাস এবং বন্যার কারণে এই বছর উৎপাদিত গবাদি পশু গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসতে পালনকারী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও গবাদি পশু বিক্রেতাগন উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। ইতোমধ্যেই গ্রামাঞ্চলে গরুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কম যার ফলে গবাদি পশু পালনকারি ও গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের সাথে জড়িত চাষীদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি গুনতে হতে পারে। একইভাবে বন্যা কবলিত অঞ্চলের মৎস্য খামার প্রকল্প সমূহের মাছ ভেসে গিয়েছে। মৎস্যচাষীগন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । যার ফলে মৎস্যসম্পদ খাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে নিঃসন্দেহে। 

ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার ধারণ করায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিতে চরম স্থবিরতা বিরাজমান। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই ফসল উৎপাদন, প্রাণি সম্পদ এর খামার প্রতিষ্ঠা, ছোট ছোট ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা, হস্তশিল্প, ছাড়াও বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনার জন্য স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান গুলো হতে ছোট ও মাঝারি ঋণ নিয়ে কর্মকা- পরিচালনা করছেন। করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারন করায় ঋণগ্রহীতা সদস্যগনের প্রায় ৪০-৪৫% সদস্য ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ এ অপারগতা প্রকাশ করে আসছেন। এক্ষেত্রে কিছু অতি দরদী কিছু দরিদ্র প্রেমিক এর ইন্ধন বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যা এপ্রিল/মে মাসে আমার মাঠ পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলাম। এই বিষয়গুলোর সরাসরি প্রভাব দেশের ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর পড়েছে। উল্লেখ্য যে, ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি আদায়ের সাময়িক স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ২৭ মার্চ হতে ১৫ মে ২০২০ পর্যন্ত মাঠ ঋণ কার্যক্রম স্থগিত করে। যার ফলে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের কিস্তি পরিকল্পনা মাফিক আদায় করতে তো পারেইনি উপরন্তু উক্ত সময়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতনসহ ও ঈদ উল ফিতরের বোনাস এবং সকল পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করতে হয়েছে। যদিও কিছু সংস্থা ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও কেবলমাত্র তারল্য সংকট এর কারণে সময়মতো সম্পূর্ণ মাসিক বেতন প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে কোথাও কোথাও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যাইহোক গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মধ্য মে ২০২০ হতে সীমিত আকারে ঋণ কার্যক্রম শুরু হলে সদস্যদের সঞ্চয় উত্তোলনের চাহিদা ক্ষুদ্রঋণ শিল্পে বাড়তি তারল্য সংকট দেখা দেয়। তথাপি ও ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে স্ব স্ব সামর্থ্য অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পুনরায় চালু করে। এখানেও স্থানীয় কিছু সুযোগ সন্ধানী এবং অতি বুঝবান স্বার্থান্বেসী মানুষের র্নিবুদ্বিতার কারনে বাধা গ্রস্থ হয়। এরইমধ্যে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুরেটরী অথরিটির নির্দেশনানুসারে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সীমিত আকারে ঋণ আদায় কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এরইমধ্যে বর্তমান বন্যা ও ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পুনরায় বাঁধার মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩১ টি জেলার ৪০ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ১৫ টি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ। জেলাগুলো হলো: কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর। তবে এবার ঐসব জেলাসহ আরো বেশি এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশে এখন “শ্রাবন এর মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে; অঝোরে নামবে বুঝি ঝরনি ধরায়ে”—- অবস্থা বিরাজমান। বৃষ্টিপাত এবং নেপাল, চীন, ভারতের উজান থেকে বন্যার পানি আসা অব্যাহত আছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এর ভাষ্য মতে এবারের বন্যা দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারে। জাতিসংঘ তো বলেই দিয়েছে যে এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের ন্যায় দীর্ঘ স্থায়ী হবে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানিবন্দি মানুষ এখন সম্পূর্ণভাবে কর্মহীন অবস্থায় সরকারি ত্রাণ নির্ভর হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বলা যায় যে, এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়বার বন্যায় ফসলহানী ও ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলের জনগণ বড় ধরনের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন। এবারও দায় টানতে হবে, গ্রামীণ চালিকাশক্তি “ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে”।

সুতরাং বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টিকে মাথায় রেখে প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রের ন্যায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিবেশবান্ধব এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সহণীয় ঋণ প্রডাক্ট ডিজাইন করতে হবে । অর্থাৎ গতানুগতিক ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষায়িত ঋণ প্রডাক্ট ডিজাইন করাসহ সামাজিক ব্যবসা এর নতুন নতুন প্রকল্প ও ক্ষেত্র উন্মোচন করতে হবে। এখনই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরবর্তীতে কৃষি উৎপাদন এর জন্য আমন (রোপা) এবং রবিশস্যের জন্য আগাম প্রস্তুতি মূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করে এই সংক্রান্ত ঋণ বিতরণ পরিকল্পনা নেওযা যেতে পারে । পাশাপাশি মাননীয় সরকারের ঘোষিত তিন হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণ সহায়তা সময়মত কাজে লাগানো যায় কিনা সে বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। বিনিয়োগযোগ্য ঋণের যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করতে পারলে ভবিষ্যতে ঋণ বিনিয়োাগ করা সংস্থাগুলোর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

সুতরাং সংস্থার নিজস্ব উদ্বৃত্ত তহবিল, পরিচালকগনের নিজস্ব তহবিল, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করে মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করবার পূর্বেই এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনতে হবে। আর এর মাধ্যমেই টেকসই ক্ষুদ্রঋণদানকারী শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকবে।

S.M.Moinur Rahman Moin
Livelihood Development and Microfinance & SME
Management Expert at Development Consultant and Global Compliance Initiative (DCGCI)Bangladesh.
—–0—-

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

শিল্প পুঁজিবাদ বনাম প্রাকৃতিক পুজিবাদঃ

স্বর্ণের ডিমের জন্য হাঁসের পেট কাঁটা নাকি হাঁসের যত্ন নেয়া।
ইশপের গল্পের সেই লোভী কৃষক টার কথা মনে আছে? ঐ যে, যেই কৃষকের একটা হাঁস ছিল, যা স্বর্ণের ডিম দিত প্রতিদিন একটা করে। লোভী কৃষক যেখানে প্রতিদিন একটা ডিমের পরিবর্তে একসাথে সব ডিম পাবার লোভে শেষ পর্যন্ত তার হাঁস টা কেই মেরে ফেলল। তার আম ছালা দুইটাই গেল।
আবার মনে করি যে এই গল্পের কৃষক আবার এরকম একটা হাঁস পেল। ন্যাড়া তো একবার ই বেল তলায় যায়। সুতরাং গতবারের মত ভুল এবার আর সে করল না, বরং হাঁসটার অনেক যত্ন করল এবং তার ১৪ পুরুষ এই হাঁসের ডিমের সুফল ভোগ করল।
এখন মনে করা যাক, হাঁস টা হল প্রকৃতি বা nature , আর ডিম যদি পণ্য হয়, তাহলে হাঁসের পেট কেটে ডিম বের করতে চাওয়াটা হল শিল্প পুঁজিবাদ, যেখানে প্রকৃতির যাই হোক না কেন, তার কোন মাথা ব্যাথা নেই, যদিও আলটিমেটলি এটার ফল ভাল হল না অর্থাৎ ডিম ও গেল আবার হাঁস ও গেল।
আবার অপরদিকে কৃষকের ২য় বারের যে উদাহরণ, যেখানে হাঁস রূপী প্রকৃতি কে সুষ্ঠ ব্যবহার এর মাধ্যমে প্রকৃতি কেই পুঁজি হিসেবে মনে করে তাকে বারবার ব্যবহার উপযোগী করে একটা দীর্ঘ ও স্থায়ী সময়ের জন্য সে লাভ করল এবং সেটা করতেই থাকল। প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ অনেকটা এই ধরণের কনসেপ্ট হিসেবে আমাদের বর্তমান অর্থনীতি তে তার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

দুঃখের বিষয় হল এই যে বর্তমান সময়ের যে পুঁজিবাদের চর্চা হচ্ছে এই পৃথিবী জুড়ে, অর্থাৎ শিল্প পুঁজিবাদ সেটি খুব বেশী প্রকৃতি বিরুদ্ধ। সমস্যা হত না যদি এটা প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের যেই সকল উপাদান তাকে মূল্য না দিত, কিন্তু এখানে মুল্য না দেওয়ার সাথে সাথে যেই জিনিসটা হচ্ছে তা হল প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে এই শিল্প পুঁজিবাদ ধ্বংস করে দিচ্ছে এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদকে।
এখন আমরা প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ বলতে মূলত কী বুঝি? এটি অনেকটা আমার লেখার শুরুর ঐ হাঁসের গল্পের মতই। অর্থাৎ প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ বলতে বুঝায় এমন এক অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে লাভ হবে প্রকৃতিকে যত্ন করে বা যত্নের সাথে ব্যবহার করে, একে ধ্বংস করে না। প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের মতে যে সকল পুঁজি আছে প্রকৃতিতে তাদের অর্থনৈতিক মুল্য ছাড়া আরও মুল্য আছে যেই মুল্য হল এমন মুল্য যার আসলে মুল্য নির্ধারণ করা সম্ভবপর হয় না, অর্থাৎ তা হল অমুল্য।

প্রাকৃতিক পুঁজিবাদে মূলত ৪ টি উপাদান পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। এরা হল প্রকৃতি, মানুষ, পণ্য এবং সবশেষে আসে টাকা। মূলত এই পুঁজিবাদ ধারণায় পুঁজি হিসেবে আসে প্রকৃতি। ইকো সিস্টেম বা আশে পাশের নেচার কেই বলা হচ্ছে এখানে পুঁজি। এরপর উৎপাদক বা producer হিসেবে মানুষ, যে এই পুঁজি কে ব্যবহার করবে এবং এরপর উৎপাদিত পণ্য বা commodity এবং সবশেষে এই পণ্য বাজার জাত করে প্রাপ্ত হল টাকা। এই টাকা কে দিয়ে আবার যত্ন করতে হবে তার সেই প্রকৃতিকে। এভাবেই মূলত প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ একটি স্থায়ী উন্নয়ন সৃষ্টি করতে থাকে।
খুব সাধারণ ভাবে যদি চিন্তা করা হয় যে এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ কিভাবে আমাদের অর্থ সাশ্রয় করে থাকে? ছোট একটা উদাহরণের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়টা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি।
এখানে পুঁজি হিসেবে ধরা যাক ইকো সিস্টেম বা বাস্তু সংস্থানের বিষয় টা। প্রকৃতিতে বাস্তুসংস্থান খাদ্যচক্র নিয়ন্ত্রণ করে, জলবায়ুর ভারসম্য বজায় রাখে, পরাগায়ন ঘটায়, জীব বৈচিত্রের সৃষ্টি করে, কীট পতঙ্গ ও ভাইরাস কে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং সবচাইতে জরুরি ব্যপার টা হল তা পরিবেশের যে বর্জ্য গুলো আছে তাকে শোষণ করে এবং যা প্রকৃতিতে থাকে তা বিষ মুক্ত করে। এক এই ইকো সিস্টেম ই যে সেবা প্রদান করে তার আর্থিক মুল্য হয় এক বছরে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ও অনেক বেশী। যা কিনা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির চাইতেও বেশী। সত্য কথা বলতে এর মুল্য অনেকটা হবে অসীম এর কাছাকাছি, কারণ এটি ছাড়া পৃথিবীর কোন প্রাণ এর ই ঠিক মত বাচার কথা না, অর্থনৈতিক কোন কারবারের তো প্রশ্নই আসে না।
আবার কিছু কিছু উপাদান চিন্তা করেন। ২০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে আপনি মাত্র ৮ জন ব্যক্তির শ্বাস নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবেন, যেখানে প্রকৃতি ৬ ট্রিলিয়ন মানুষের টা করছে প্রতিদিন, তা আবার বিনামুল্যে। তারমানে প্রকৃতির অনেক কিছুই আসলে অমুল্য। এটি যখন ধ্বংস হয় তখন তা অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি হিসেবে দেখা দেয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে।
এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ মূলত ৪ টি মূলনীতির উপর চলে। প্রথমটি হলঃ
১) ক্রমান্বয়ে সম্পূর্ণ ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ
প্রযুক্তি ও উৎপাদন ডিজাইনের কিছু মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু দূরদর্শী কোম্পানি যেটা করছে সেটা হল প্রাকৃতিক সম্পদের যেমন পানি, খনিজ বা শক্তির সেবা ক্ষমতা ৫,১০ এমনকি ১০০ গুন বেশী করা যা বর্তমানে আছে তার চাইতে।
এটি পরের ৩ টি মুলনীতিকে সহজ করে তুলবে তুলনামুলক ভাবে।
২) জৈবিক উৎপাদন মডেলে শিফট করাঃ

প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ কখনও জৈবিক যে সকল বর্জ্য আছে তাকে সম্পূর্ণ রূপে শেষ না করে চায় তা আবার বিভিন্ন ভাবে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনতে। যেমন কমপোস্ট সার। এমনভাবে ফিরিয়ে আনতে চায় যাতে প্রকৃতির কোন ক্ষতি না হয়।
৩) ক্রমাগত সেবা প্রদানকারী ব্যবসা মডেলঃ
বর্তমানের ব্যবসা মডেল বলতে মূলত বুঝাচ্ছে যে পণ্যের বিক্রয় টা। কিন্তু এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের নতুন মডেল এই কথা বলে না। এটি বলছে ক্রমাগত সেবা জাকে ইংরেজীতে বলছে service and flow এই সিস্টেমে। এখানে বারবার বাল্ব বিক্রির চাইতে এর দীপন ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলে হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য সাশ্রয়ী আবার ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক।
৪) প্রাকৃতিক পুঁজিবাদে পুনরায় বিনিয়োগ করাঃ

কথায় বলে যে “টাকায় টাকা আনে”। ঠিক সেরকম ই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের মতে যত বেশী প্রকৃতির পুঁজির জন্য বিনিয়োগ করা হবে, সেটি তত বেশী সুফল বয়ে আনবে ।
এই ছিল মূলত প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের উপর আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দ্বারা করা আলোকপাত।

প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের উপর সর্বপ্রথম আলোকপাত করা হয় ১৯৯৯ সালে, “Natural Capitalism: Creating the Next Industrial Revolution” নামের বইটিতে, যেটির লেখক ছিলেন মূলত ৩ জন; পল হকেন, এমরি বি লভিন্স এবং আল হান্টার লভিন্স।

লেখক
মাহ্‌দী যুবায়ের
বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেকচারার- পৌরনীতি ও সুশাসন- ইউনুছ খান মেমোরিয়াল কলেজ, শামুরবাড়ি,লৌহজং,মুন্সিগঞ্জ।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/