এক কুমিরের একবার শখ হলো যে সে তার বাচ্চাদের শিক্ষিত বানাবে। এখন শিক্ষিত যে বানাবে সে শিক্ষক পাবে কোথায়। চিন্তা করতে করতে তার মনে পরল শিয়ালের কথা। শিয়ালকে তো প্রাণী জগতের সবাই পণ্ডিত বলে থাকে। সেজন্য সে ঠিক করল যে শিয়ালের কাছেই তার ছানাদের পাঠাবে। সে পাঠাল তার ৮ ছানাকে। এদিকে নাদুস নুদুস ছানা দেখে তো শিয়ালের মুখে লোল পড়ার অবস্থা। তো সে প্রতিদিন একটা করে ছানা খেতে থাকল। আর কুমির তার বাচ্চাদের মাঝে মাঝে দেখতে চাইলে সে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা বাচ্চাকে বারবার দেখিয়ে বুঝ দিত যে ৮ টি বাচ্চাই আছে। এদিকে কুমিরও নিশ্চিতভাবে বসে থাকে আর আরেক দিয়ে তার একটা একটা করে বাচ্চা সাবাড় হতে থাকে।

এখন এই রুপক গল্প টাকে আমরা যদি ক্ষুদ্র ঋণের প্রেক্ষিতে দেখতে চাই, তাহলে কুমির হলো প্রতিষ্ঠান, শিয়াল হলো সদস্য, বাচ্চা হলো টাকা আর বাচ্চাকে শিক্ষিত করা হচ্ছে সেই প্রকল্প যার জন্য আপনি ঐ সদস্যকে টাকা দিয়েছেন।

এখন আসুন আমরা দেখি যে আমরা মূলত ঋণ টা কেন দিই। সেটা কি শুধুমাত্র আমাদের ঋণস্থিতি বা Loan Outstanding বাড়ানোর জন্য নাকি ঐ সদস্য এর প্রকৃত উন্নয়নের জন্য যাতে করে সে তার ঐ প্রকল্পে উন্নয়নের মাধ্যমে নিজের ও তার পরিবারের উন্নয়ন সাধনের পাশাপাশি  ঐ প্রকল্পের জন্য পরবর্তীতে আরও বেশি ঋণ নিতে পারে এবং এতে করে ঐ সংস্থার ঋণ স্থিতি আরও বৃদ্ধি পায় তার জন্য। এখন যদি সংস্থা ভাসা ভাসা বা সঠিক ভাবে চেক না করে একবার ঋণ দিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে কুমিরের মত করে মনিটরিং করে তাতে একদিকে ঐ লোকের প্রকৃত উন্নয়ন তো হবেই না বরং সে শিয়ালের মত করে সব টাকা খেয়ে ফেলবে। তখন না হবে কুমিরের ছানা শিক্ষিত অর্থাৎ না হবে প্রকল্পের কোন সঠিক উন্নয়নের মাধ্যমে সদস্যর উন্নতি অপরদিকে না থাকবে কুমিরের বাচ্চা অর্থাৎ টাকা টা পুরো জ্বলে যাবে। সেই টাকার কোন Productivity থাকবে না।

একটি মানুষের আর্থিক উন্নয়নের যে মূলমন্ত্রের জোরে এই সকল ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা ঋণ দিয়ে থাকে সঠিক মনিটরিঙের অভাবে সেটি বরং হয়ে যাচ্ছে বোঝার ন্যায়। এভাবে ঋণ দেয়ার পর ঠিক মত ঋণ প্রকল্প মনিটরিং হয় না বলেই একসময় এই ঋণের টাকা গলার কাটার মত বেজে থাকে। না পারে উগরাতে না পারে গিলতে। অপরদিকে যে কর্মী ঋণ দেয় সে তো পাগলের মত টাকা আনার জন্য ব্যস্ত থাকে। এভাবে এক দিন দুই দিনের মাথায় শুরু করে খারাপ ব্যবহার। আর ঋণ সংস্থার নাম হয়ে যায় রক্তচোষা। এভাবেই রেপুটেশন নষ্ট হচ্ছে এই সকল ঋণ প্রতিষ্ঠানের।

হ্যাঁ, আপনারা বলতে পারেন ব্যাংক কি এত খোঁজ নিয়ে বা এত মনিটরিং করে ঋণ দেয়? যদি তাই না দেয় তবে আমরা কেন দিব?? ভাই, ব্যাংক তো নিজেকে উন্নয়ন সংগঠন বলে দাবি করে না, কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী এই সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিন্তু নিজেদের উন্নয়ন সংগঠন বলে কাজ করে এবং তাঁদের মূলমন্ত্র কিন্তু তাঁদের সদস্য দের সকল ধরণের সমন্বিত উন্নয়ন সংগঠিত করা। তাছাড়া ব্যাংক তো মূলত তাদেরকেই ঋণ দেয় যারা আর্থিকভাবে মোটামুটি সচ্ছল বা যারা তার এই ঋণ শোধ করতে পারে বা ঋণের পরিবর্তে কিছু মর্টগেজ রাখতে পারে। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মূল টার্গেট গ্রুপ কিন্তু ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা মূলত ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারত না বা যাদের মর্টগেজ রাখার মত তেমন কোন সম্পত্তি ছিল না। ক্ষুদ্র ঋণ তো এভাবেই তাদেরকে একটু একটু করে ঋণ প্রদান করে, বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং ঋণ দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে উন্নত অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করত।

কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাঁদের এই মূলনীতি থেকে দূরে সরে আসার জন্য আদতে যা ছিল উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠান এখন হয়ে যাচ্ছে তা মানুষের জন্য গলার কাঁটা। অনেক ক্ষেত্রেই শুধু মনিটরিং এর অভাবের জন্য এই সকল প্রতিষ্ঠান হচ্ছে উন্নয়নের স্থানে অবনতি কারী প্রতিষ্ঠান যা কিন্তু একটি সতর্ক সংকেত।

এখন কিন্তু ব্যাংক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কে বিভিন্ন ঋণ দিচ্ছে। অনেক ক্ষুদ্র ঋণ  প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও এখন ব্যাংক খুলেছে। কিন্তু এই সকল ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি শুধুমাত্র তাঁদের ব্যবসায়ের খাতিরে ঋণ স্থিতি বাড়ানোর জন্য এভাবে মনিটরিং না করে ঋণ প্রদান করতেই থাকে তবে তা এই সকল প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে আরও বহুগুনে হ্রাস করতে পারে। এর থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কয়েকটি মূল ঋণ প্রদান প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ এর তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন ও নিয়মিত বিরতিতে প্রকল্প মনিটরিং এর মাধ্যমে পরবর্তী ঋণের রাস্তা সুগম করা। এতে করে একদিকে যেমন এই সকল ঋণ প্রদানকারী সংস্থার জনপ্রিয়তা ও ব্যবসার ক্ষেত্র বাড়বে অপরদিকে সদস্যদের আর্থিক উন্নতি সম্ভব।

লেখক
মাহ্‌দী যুবায়ের
বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেকচারার- পৌরনীতি ও সুশাসন- ইউনুছ খান মেমোরিয়াল কলেজ, শামুরবাড়ি,লৌহজং,মুন্সিগঞ্জ।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

উন্নয়ন কার্যক্রম কিভাবে শুরু হয় ?

স্বরে “অ” তে ঐ “অজগর” ……

এক লোক দিগম্বর হয়ে কাপড় ছাড়া রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছে। এই দেখে আরেক লোক জিজ্ঞেস করলেন যে ভাই আপনি এমনে কাপড় না পরে দৌড়াদৌড়ি করছেন কেন? লোকটি করুণ মুখে উত্তর দিল “ ভাই, আমি কাপড় পড়ার জন্য নিরিবিলি একটা জায়গা খুঁজছি” 

কৌতুকটা পড়ে যাদের সেন্স অব হিউমার খুব ভাল তারা সবাই নিশ্চয় হাসছেন, যাদের সেন্স অব হিউমার ভাল না, তাদের কথা অবশ্য ভিন্ন। যাই হোক আমি হাস্যরসের একটু বাইরে গিয়ে এই কৌতুকটাকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি।

 Priority বলে একটা বিষয় আছে, অর্থাৎ প্রথমে কোন কাজটা করা উচিত। কাপড় পড়ার জন্য যেমন নিরিবিলি স্থান দরকার এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি উপরের কৌতুকের পরিস্থিতিতে আগে কাপড় পড়াটা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে কেউ আমাকে কাপড় পড়ার সময় দেখছে সেই চিন্তা করার আগে আমাকে সবাই কাপড় ছাড়া দেখছে সেই চিন্তাটাই আগে আসা প্রয়োজন, তারপর না গোপনে কাপড় পড়ার প্রয়োজনীয়তা।

আমরা যারা বাঙালি আছি, তারা যে যেরকমই শিক্ষিত হোক না কেন, মনে করি কেউ পঞ্চম শ্রেণী পাশ, কেউ এস এস সি, কেউ আবার গ্র্যাজুয়েট আবার কেউ কেউ হন পি এইচ ডি হোল্ডার। যে যাই হোক না কেন, সবার পড়াটা কিন্তু শুরু হয়েছে সেই স্বরে “অ” তে ঐ “অজগর” থেকেই।

মূল কথায় যাবার আগে এই ধরণের তবলার ঠুক ঠাকের কারণ হল আপনি যার যেরকম উন্নতির ডিজাইন ই করেন না কেন সেই ডিজাইন শুরু হতে হবে একদম বেসিক থেকে। অর্থাৎ শুরু করতে হবে প্রথম থেকে। যেখানে প্রথমেই কাপড় পড়ার প্রয়োজনীয়তা সেখানে যদি আপনি কাপড় পড়ার জন্য নিরিবিলি জায়গা খুঁজতেই ব্যস্ত থাকেন তাহলে কিন্তু হবে না। এটি খুব ই সিম্পল ব্যাপার যে, আপনি গ্র্যাজুয়েশন ই করেন অথবা পি এইচ ডি আপনাকে সবার প্রথমে আপনাকে স্বরে “অ” তে ঐ “অজগর” পড়েই কিন্তু আসতে হবে, নাহলে কিছুই সম্ভব না।  

এখন প্রশ্ন টা হচ্ছে উন্নয়েনর জন্য হোক সেটা একটি মানুষ, একটি পরিবার অথবা একটি প্রতিষ্ঠান, সেইখানে স্বরে “অ” টা আসলে কী।

এই ক্ষেত্রে আমার অভিমত হচ্ছে উন্নয়নের প্রথম সিঁড়ি টা হল নিজের বা নিজেদের সামর্থ্যের উপর বিশ্বাস। “ আমি / আমরা পাড়ব” এই বিশ্বাস নিয়ে আসা। একটি মানুষ হল অমিত সম্ভাবনার দুয়ার। একটি মানুষ যতই জ্ঞানী এবং দক্ষ হোক না কেন তার যদি নিজের সামর্থ্যের উপর পুরোপুরি বিশ্বাস না থাকে তাহলে সে তার সেই জ্ঞান অথবা দক্ষতা কাজে লাগাতে অক্ষম। আবার একজন কম জ্ঞানী এবং কম দক্ষ লোকেরও যদি নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বিশ্বাস থাকে, নিজের ভিতর যে অমিত সম্ভাবনা সেটি বিকশিত করতে পারেন তবে সে তার কম দক্ষতা আর কম জ্ঞানের ঘাটতি খুব সহজেই দূর করতে পারে।

যত গুলো পরিবার নিয়ে স্টাডি করলাম তারা এবং তারা ছাড়া আরও যেসব অনুন্নত পরিবার রয়েছে তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রথম যে উন্নয়ন ডিজাইন টা প্রয়োজন তা হোল নিজেদের ভিতর এই মানসিক শক্তি টা নিয়ে আসা যে আমরাও পারব। এই বিশ্বাস টা গড়ে তোলা যে, আমরা সৃষ্টির সেরা জীব, আমাদের মতই মানুষরাই যদি অসাধ্য সাধন করতে পারে তাহলে আমরা কেন পারব না।

যতক্ষণ না পর্যন্ত এই বোধ আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি অর্থনৈতিক সাহায্যই দেন, অথবা কারিগরিক জ্ঞান, অথবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন, তার অথবা তাদের উন্নতি করা কঠিন হয়ে যাবে।

উন্নয়নের প্রায়োরিটির প্রথম বিষয় টাই হল মানুষের ভিতরে অন্তর্নিহিত যে অসীম ক্ষমতা, যে অমিত সম্ভাবনা বিরাজমান সেইটি পূর্ণরূপে বিশ্বাস করা, যেটি থাকলেই সে অথবা তারা নিজেদের বাস্তবিক সামর্থ্যের সবটুকু প্রকাশ করে, সবতুকু দিয়ে তার বাস্তব উন্নয়ন করতে পারবে।

প্রতিবেদনের সূচনাটা করেছিলাম একটি কৌতুক দিয়ে, শেষটা করছি এরকমই আরেকটা কৌতুকের বিশ্লেষণ দিয়ে।

এক লোক সবসময় সব খানে লেট করে যান। প্রোগ্রামে, অফিসে বাজারে সব জায়গায় লেট করে যাবার অভ্যাস উনার। এই নিয়ে তার স্ত্রী মহা ক্ষিপ্ত। তো একদিন তিনি অফিস থেকে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলছেন “ জান, আজকে ৫ মিনিট দেরী করে অফিসে যাবার জন্য বেঁচে গেছি। আমি যাবার ঠিক ৫ মিনিট আগেই অফিসে আগুন লেগে আমার রুমের সবাই মারা গেছে। বস সবার পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন” জবাবে স্ত্রী বলছেন, “ দেখেছ, তোমার লেট করার অভ্যাসের জন্য আজকে আমাদের ১০ লক্ষ টাকা মিস হয়ে গেল”।

এই কৌতুক টা পড়েও যদি কেউ না হেসে থাকেন তবে অতি সত্বর ডাক্তার দেখান উচিত। তবে উন্নয়ন কর্মী দের জন্য একটি সুন্দর উদাহরণ হোল এই কৌতুক। ১০ লক্ষ টাকার সাময়িক উন্নয়ন নয়,সঠিক উন্নয়ন করার জন্য প্রয়োজন স্বামীর মতন স্থায়ীত্তশীল উন্নয়ন। হোক না সেই স্বামী একটু লেট লতিফ  টাইপ, কী বা ক্ষতি এসে যাই তাতে!!!!!

লেখক
মাহ্‌দী যুবায়ের
বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেকচারার- পৌরনীতি ও সুশাসন- ইউনুছ খান মেমোরিয়াল কলেজ, শামুরবাড়ি,লৌহজং,মুন্সিগঞ্জ।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

“কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেই বন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ শিল্প “

– শেখ মঈনুর রহমান

করোনা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় দফা বন্যা ভাসছে দেশের উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের ৩১ টি জেলার ৪০ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানি এখন রাজধানীর চতুর্পার্শ্বের চারটি নদীর বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বালু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বাঞ্চলের নিম্ন এলাকাুমুহ প্লাবিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান দেশের ভেতরে এবং পশ্চিমবঙ্গে যে বৃষ্টিপাত ঝরিয়েছে এবং মুম্বাইয়ে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের বৃষ্টির পানি নেমে আসায় দেশের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে এই মূহূর্তে ভারত ফারাক্কাসহ তার সব বাঁধের গেট খুলে দেয়ায় এ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এরই সাথে বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাড়ি-ঘরসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

এনজিওসমূহ হতে ঋণ নিয়ে ব্যবসা, বাণিজ্য, কৃষি উৎপাদন, হাঁস মুরগির ও গবাদি পশুর খামার প্রতিষ্ঠাকারি অসংখ্য মানুষ সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারীর মধ্যে জেলা শহর এবং গ্রামের লাখ লাখ মানুষ ক্ষেতের ফসল, গরু,ছাগল, হাঁস মুরগির খামার, মাছের খামার, শিল্প, সকল ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়ে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আগামী ঈদুল আযহা কে উপলক্ষ্য করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে। বিগত বৎসরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী একমাত্র কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই দেশে ৪০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। দুঃখজনকভাবে সত্যি হল, করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কারনে এবছর অনেকেই গরু কোরবানির দেওয়া থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখবেন অথবা এখন পর্যন্ত দ্বিধাগ্রস্থ। একই সাথে সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানীর পশুর হাট পরিচালনা করার জোর তাগিদ রয়েছে। করোনা ভাইরাস এবং বন্যার কারণে এই বছর উৎপাদিত গবাদি পশু গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসতে পালনকারী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও গবাদি পশু বিক্রেতাগন উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। ইতোমধ্যেই গ্রামাঞ্চলে গরুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কম যার ফলে গবাদি পশু পালনকারি ও গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের সাথে জড়িত চাষীদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি গুনতে হতে পারে। একইভাবে বন্যা কবলিত অঞ্চলের মৎস্য খামার প্রকল্প সমূহের মাছ ভেসে গিয়েছে। মৎস্যচাষীগন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । যার ফলে মৎস্যসম্পদ খাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে নিঃসন্দেহে। 

ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার ধারণ করায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিতে চরম স্থবিরতা বিরাজমান। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই ফসল উৎপাদন, প্রাণি সম্পদ এর খামার প্রতিষ্ঠা, ছোট ছোট ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা, হস্তশিল্প, ছাড়াও বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনার জন্য স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান গুলো হতে ছোট ও মাঝারি ঋণ নিয়ে কর্মকা- পরিচালনা করছেন। করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারন করায় ঋণগ্রহীতা সদস্যগনের প্রায় ৪০-৪৫% সদস্য ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ এ অপারগতা প্রকাশ করে আসছেন। এক্ষেত্রে কিছু অতি দরদী কিছু দরিদ্র প্রেমিক এর ইন্ধন বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যা এপ্রিল/মে মাসে আমার মাঠ পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলাম। এই বিষয়গুলোর সরাসরি প্রভাব দেশের ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর পড়েছে। উল্লেখ্য যে, ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি আদায়ের সাময়িক স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ২৭ মার্চ হতে ১৫ মে ২০২০ পর্যন্ত মাঠ ঋণ কার্যক্রম স্থগিত করে। যার ফলে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের কিস্তি পরিকল্পনা মাফিক আদায় করতে তো পারেইনি উপরন্তু উক্ত সময়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতনসহ ও ঈদ উল ফিতরের বোনাস এবং সকল পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করতে হয়েছে। যদিও কিছু সংস্থা ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও কেবলমাত্র তারল্য সংকট এর কারণে সময়মতো সম্পূর্ণ মাসিক বেতন প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে কোথাও কোথাও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যাইহোক গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মধ্য মে ২০২০ হতে সীমিত আকারে ঋণ কার্যক্রম শুরু হলে সদস্যদের সঞ্চয় উত্তোলনের চাহিদা ক্ষুদ্রঋণ শিল্পে বাড়তি তারল্য সংকট দেখা দেয়। তথাপি ও ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে স্ব স্ব সামর্থ্য অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পুনরায় চালু করে। এখানেও স্থানীয় কিছু সুযোগ সন্ধানী এবং অতি বুঝবান স্বার্থান্বেসী মানুষের র্নিবুদ্বিতার কারনে বাধা গ্রস্থ হয়। এরইমধ্যে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুরেটরী অথরিটির নির্দেশনানুসারে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সীমিত আকারে ঋণ আদায় কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এরইমধ্যে বর্তমান বন্যা ও ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পুনরায় বাঁধার মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩১ টি জেলার ৪০ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ১৫ টি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ। জেলাগুলো হলো: কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর। তবে এবার ঐসব জেলাসহ আরো বেশি এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশে এখন “শ্রাবন এর মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে; অঝোরে নামবে বুঝি ঝরনি ধরায়ে”—- অবস্থা বিরাজমান। বৃষ্টিপাত এবং নেপাল, চীন, ভারতের উজান থেকে বন্যার পানি আসা অব্যাহত আছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এর ভাষ্য মতে এবারের বন্যা দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারে। জাতিসংঘ তো বলেই দিয়েছে যে এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের ন্যায় দীর্ঘ স্থায়ী হবে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানিবন্দি মানুষ এখন সম্পূর্ণভাবে কর্মহীন অবস্থায় সরকারি ত্রাণ নির্ভর হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বলা যায় যে, এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়বার বন্যায় ফসলহানী ও ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলের জনগণ বড় ধরনের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন। এবারও দায় টানতে হবে, গ্রামীণ চালিকাশক্তি “ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে”।

সুতরাং বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টিকে মাথায় রেখে প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রের ন্যায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিবেশবান্ধব এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সহণীয় ঋণ প্রডাক্ট ডিজাইন করতে হবে । অর্থাৎ গতানুগতিক ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষায়িত ঋণ প্রডাক্ট ডিজাইন করাসহ সামাজিক ব্যবসা এর নতুন নতুন প্রকল্প ও ক্ষেত্র উন্মোচন করতে হবে। এখনই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরবর্তীতে কৃষি উৎপাদন এর জন্য আমন (রোপা) এবং রবিশস্যের জন্য আগাম প্রস্তুতি মূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করে এই সংক্রান্ত ঋণ বিতরণ পরিকল্পনা নেওযা যেতে পারে । পাশাপাশি মাননীয় সরকারের ঘোষিত তিন হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণ সহায়তা সময়মত কাজে লাগানো যায় কিনা সে বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। বিনিয়োগযোগ্য ঋণের যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করতে পারলে ভবিষ্যতে ঋণ বিনিয়োাগ করা সংস্থাগুলোর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

সুতরাং সংস্থার নিজস্ব উদ্বৃত্ত তহবিল, পরিচালকগনের নিজস্ব তহবিল, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করে মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করবার পূর্বেই এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনতে হবে। আর এর মাধ্যমেই টেকসই ক্ষুদ্রঋণদানকারী শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকবে।

S.M.Moinur Rahman Moin
Livelihood Development and Microfinance & SME
Management Expert at Development Consultant and Global Compliance Initiative (DCGCI)Bangladesh.
—–0—-

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

শিল্প পুঁজিবাদ বনাম প্রাকৃতিক পুজিবাদঃ

স্বর্ণের ডিমের জন্য হাঁসের পেট কাঁটা নাকি হাঁসের যত্ন নেয়া।
ইশপের গল্পের সেই লোভী কৃষক টার কথা মনে আছে? ঐ যে, যেই কৃষকের একটা হাঁস ছিল, যা স্বর্ণের ডিম দিত প্রতিদিন একটা করে। লোভী কৃষক যেখানে প্রতিদিন একটা ডিমের পরিবর্তে একসাথে সব ডিম পাবার লোভে শেষ পর্যন্ত তার হাঁস টা কেই মেরে ফেলল। তার আম ছালা দুইটাই গেল।
আবার মনে করি যে এই গল্পের কৃষক আবার এরকম একটা হাঁস পেল। ন্যাড়া তো একবার ই বেল তলায় যায়। সুতরাং গতবারের মত ভুল এবার আর সে করল না, বরং হাঁসটার অনেক যত্ন করল এবং তার ১৪ পুরুষ এই হাঁসের ডিমের সুফল ভোগ করল।
এখন মনে করা যাক, হাঁস টা হল প্রকৃতি বা nature , আর ডিম যদি পণ্য হয়, তাহলে হাঁসের পেট কেটে ডিম বের করতে চাওয়াটা হল শিল্প পুঁজিবাদ, যেখানে প্রকৃতির যাই হোক না কেন, তার কোন মাথা ব্যাথা নেই, যদিও আলটিমেটলি এটার ফল ভাল হল না অর্থাৎ ডিম ও গেল আবার হাঁস ও গেল।
আবার অপরদিকে কৃষকের ২য় বারের যে উদাহরণ, যেখানে হাঁস রূপী প্রকৃতি কে সুষ্ঠ ব্যবহার এর মাধ্যমে প্রকৃতি কেই পুঁজি হিসেবে মনে করে তাকে বারবার ব্যবহার উপযোগী করে একটা দীর্ঘ ও স্থায়ী সময়ের জন্য সে লাভ করল এবং সেটা করতেই থাকল। প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ অনেকটা এই ধরণের কনসেপ্ট হিসেবে আমাদের বর্তমান অর্থনীতি তে তার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

দুঃখের বিষয় হল এই যে বর্তমান সময়ের যে পুঁজিবাদের চর্চা হচ্ছে এই পৃথিবী জুড়ে, অর্থাৎ শিল্প পুঁজিবাদ সেটি খুব বেশী প্রকৃতি বিরুদ্ধ। সমস্যা হত না যদি এটা প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের যেই সকল উপাদান তাকে মূল্য না দিত, কিন্তু এখানে মুল্য না দেওয়ার সাথে সাথে যেই জিনিসটা হচ্ছে তা হল প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে এই শিল্প পুঁজিবাদ ধ্বংস করে দিচ্ছে এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদকে।
এখন আমরা প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ বলতে মূলত কী বুঝি? এটি অনেকটা আমার লেখার শুরুর ঐ হাঁসের গল্পের মতই। অর্থাৎ প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ বলতে বুঝায় এমন এক অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে লাভ হবে প্রকৃতিকে যত্ন করে বা যত্নের সাথে ব্যবহার করে, একে ধ্বংস করে না। প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের মতে যে সকল পুঁজি আছে প্রকৃতিতে তাদের অর্থনৈতিক মুল্য ছাড়া আরও মুল্য আছে যেই মুল্য হল এমন মুল্য যার আসলে মুল্য নির্ধারণ করা সম্ভবপর হয় না, অর্থাৎ তা হল অমুল্য।

প্রাকৃতিক পুঁজিবাদে মূলত ৪ টি উপাদান পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। এরা হল প্রকৃতি, মানুষ, পণ্য এবং সবশেষে আসে টাকা। মূলত এই পুঁজিবাদ ধারণায় পুঁজি হিসেবে আসে প্রকৃতি। ইকো সিস্টেম বা আশে পাশের নেচার কেই বলা হচ্ছে এখানে পুঁজি। এরপর উৎপাদক বা producer হিসেবে মানুষ, যে এই পুঁজি কে ব্যবহার করবে এবং এরপর উৎপাদিত পণ্য বা commodity এবং সবশেষে এই পণ্য বাজার জাত করে প্রাপ্ত হল টাকা। এই টাকা কে দিয়ে আবার যত্ন করতে হবে তার সেই প্রকৃতিকে। এভাবেই মূলত প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ একটি স্থায়ী উন্নয়ন সৃষ্টি করতে থাকে।
খুব সাধারণ ভাবে যদি চিন্তা করা হয় যে এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ কিভাবে আমাদের অর্থ সাশ্রয় করে থাকে? ছোট একটা উদাহরণের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়টা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি।
এখানে পুঁজি হিসেবে ধরা যাক ইকো সিস্টেম বা বাস্তু সংস্থানের বিষয় টা। প্রকৃতিতে বাস্তুসংস্থান খাদ্যচক্র নিয়ন্ত্রণ করে, জলবায়ুর ভারসম্য বজায় রাখে, পরাগায়ন ঘটায়, জীব বৈচিত্রের সৃষ্টি করে, কীট পতঙ্গ ও ভাইরাস কে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং সবচাইতে জরুরি ব্যপার টা হল তা পরিবেশের যে বর্জ্য গুলো আছে তাকে শোষণ করে এবং যা প্রকৃতিতে থাকে তা বিষ মুক্ত করে। এক এই ইকো সিস্টেম ই যে সেবা প্রদান করে তার আর্থিক মুল্য হয় এক বছরে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ও অনেক বেশী। যা কিনা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির চাইতেও বেশী। সত্য কথা বলতে এর মুল্য অনেকটা হবে অসীম এর কাছাকাছি, কারণ এটি ছাড়া পৃথিবীর কোন প্রাণ এর ই ঠিক মত বাচার কথা না, অর্থনৈতিক কোন কারবারের তো প্রশ্নই আসে না।
আবার কিছু কিছু উপাদান চিন্তা করেন। ২০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে আপনি মাত্র ৮ জন ব্যক্তির শ্বাস নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবেন, যেখানে প্রকৃতি ৬ ট্রিলিয়ন মানুষের টা করছে প্রতিদিন, তা আবার বিনামুল্যে। তারমানে প্রকৃতির অনেক কিছুই আসলে অমুল্য। এটি যখন ধ্বংস হয় তখন তা অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি হিসেবে দেখা দেয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে।
এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ মূলত ৪ টি মূলনীতির উপর চলে। প্রথমটি হলঃ
১) ক্রমান্বয়ে সম্পূর্ণ ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ
প্রযুক্তি ও উৎপাদন ডিজাইনের কিছু মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু দূরদর্শী কোম্পানি যেটা করছে সেটা হল প্রাকৃতিক সম্পদের যেমন পানি, খনিজ বা শক্তির সেবা ক্ষমতা ৫,১০ এমনকি ১০০ গুন বেশী করা যা বর্তমানে আছে তার চাইতে।
এটি পরের ৩ টি মুলনীতিকে সহজ করে তুলবে তুলনামুলক ভাবে।
২) জৈবিক উৎপাদন মডেলে শিফট করাঃ

প্রাকৃতিক পুঁজিবাদ কখনও জৈবিক যে সকল বর্জ্য আছে তাকে সম্পূর্ণ রূপে শেষ না করে চায় তা আবার বিভিন্ন ভাবে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনতে। যেমন কমপোস্ট সার। এমনভাবে ফিরিয়ে আনতে চায় যাতে প্রকৃতির কোন ক্ষতি না হয়।
৩) ক্রমাগত সেবা প্রদানকারী ব্যবসা মডেলঃ
বর্তমানের ব্যবসা মডেল বলতে মূলত বুঝাচ্ছে যে পণ্যের বিক্রয় টা। কিন্তু এই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের নতুন মডেল এই কথা বলে না। এটি বলছে ক্রমাগত সেবা জাকে ইংরেজীতে বলছে service and flow এই সিস্টেমে। এখানে বারবার বাল্ব বিক্রির চাইতে এর দীপন ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলে হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য সাশ্রয়ী আবার ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক।
৪) প্রাকৃতিক পুঁজিবাদে পুনরায় বিনিয়োগ করাঃ

কথায় বলে যে “টাকায় টাকা আনে”। ঠিক সেরকম ই প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের মতে যত বেশী প্রকৃতির পুঁজির জন্য বিনিয়োগ করা হবে, সেটি তত বেশী সুফল বয়ে আনবে ।
এই ছিল মূলত প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের উপর আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দ্বারা করা আলোকপাত।

প্রাকৃতিক পুঁজিবাদের উপর সর্বপ্রথম আলোকপাত করা হয় ১৯৯৯ সালে, “Natural Capitalism: Creating the Next Industrial Revolution” নামের বইটিতে, যেটির লেখক ছিলেন মূলত ৩ জন; পল হকেন, এমরি বি লভিন্স এবং আল হান্টার লভিন্স।

লেখক
মাহ্‌দী যুবায়ের
বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেকচারার- পৌরনীতি ও সুশাসন- ইউনুছ খান মেমোরিয়াল কলেজ, শামুরবাড়ি,লৌহজং,মুন্সিগঞ্জ।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

MICROFINANCE INDUSTRY IN BANGLADESH IS FACING ECONOMIC SHOCK WAVE THAT NEEDS SPECIAL CARE. ———- Sheikh Moinur Rahman, Livelihood Development and Microfinance & SME Management Expert

Reference: Based on my direct field visit.

The world is now on a mode of reformation since last six months. The economic dotard caused by the COVID 19 pandemic has resulted in massive disruption in the world economy. Likewise many other developing countries around the globe Bangladesh is bracing itself for an economic shock wave whose scale, duration and long-term ramifications are difficult to predict. Above 700 licensed Microfinance institutions in the country directly serve the needs of 3.3 crore missing middle population which is indirectly 85% of the total population those have very limited access to formal financial institutions. Approximately 15 lakh educated employees are working to keep alive their families where 6-7 million people are surviving. The total portfolio is about BDT 1,58,000 crore (approx.) and clients savings is about BDT 50,000 crore (aaprox). Unfortunately these group of people including the so-called middle and lower middle classes of the society is typically proven as the least resilient when confronting financial shocks in this pandemic. It is now important to all stakeholders to find a sustainable solutions to overcome the crisis.

 As a microfinance practitioners point of view we should find some way forward to get rid of the crisis.

First of all this has to bear in mind that the present economic depression is neither like what the world has faced in 2008-9 which was commonly a financial depression nor this is a natural disaster like cyclone or earthquake that could hit and go away with some destructions in a particular land or area. But this time the COVID 19 pandemic is different type of health related disaster that has hit every corner of the country and impacting everyone across the board. Thereby this crisis has demolished the trade and business in rural and urban micro, SMEs and macro level due to lockdown in the society.

The virus social contamination rate is accelerating day by day to an uncertain trends. MFIs are operating loan program with a moratorium of installment repayment. The average installment collection rate is 60% caused the new loan disbursement is slow down. Moreover the clients are incapable to deposit weekly savings rather withdrawal rate is high. This situation has fall the MFIs in shortage of fund. In another way the MFIs earnings has failed to meet the staff salary and benefits thereby staff upset is increasing and many of them are switching to other jobs or lost their job. So the MFIs, employees and client relationship is becoming unpleasant to some extent that will likely destroy much of the “high touch” capacity that many beneficiaries want and need. It may also lead to an overall destruction of capacity, setting the sector back for years or permanently, unless the recapitalization and consolidation process is handled well.

Many MFIs, particularly smaller ones in rural areas, with a larger proportion of small, informal and women borrowers, are in danger of being overlooked as the govt declared incentive will likely focus on big institutions with greater linkages to the financial institutions. The role that MFIs play in normal times, i.e. smoothing income through loans and savings, providing emergency funds, disseminating relevant information and guidance, etc. now mean the difference between life and death for many families.

There are some unusual aspects to this crisis too. One is that while we do not know how much health suffering the virus will inflict, we already have seen the public health response inflicting economic suffering. What we are experiencing about the financial resilience of low and middle income people around the country that the majority of families who lost their livelihoods are spending their deposit since the pandemic caused months after months of lock-down. So it is nothing wonder that there is already a rising backlash against the trade-off governments are making: economic pain now versus uncertain physical suffering later. As of now, the country is still looking for an end up like the whole world are expecting but not a single country is really out of danger yet, so in Bangladesh we could be experienced in for months and months of restrictions on normal activities as countries open up and then close down again.

 At present the promoters of microfinance industry has urged a flexible regulations along with adequate fund supply by the govt. Though the govt has declared BDT 3.000 crore incentive fund by Commercial banks, BDT 500 crore through PKSF, whereas the industry demand is for BDT 25,000 crore in the budget to setting up the sector back.

 The following steps can help the Country’s MFIs industry to hold back on the steering:

1. A joint operation committee can be formed by the MRA, PKSF, CDF and multi-level MFI representative.

2. MRA can set the rules and regulations flexible for next one year.

3. Adequate fund supply need to be ensured. The foreign investment framework can be introduced to welcome foreign investment to the industry.

4. Pandemic resilient special loan and savings product design.

5. Introducing social business.

6. Undue interference and propaganda by the local govt and others should be stopped immediately.

7. Employee salary and benefit will need to be ensured accordingly.

8. Employee health and safety measures should be ensured by the MFIs.

9. Loan restructuring and rescheduling.

10. The rate of service charge for two category loan products (regular loan rate 13% and incentive loan rate 9%) need to be rethink. Because the past experience of disaster loan product was not happy so far.

11. The declared incentive should be sanctioned without delay.

Finally, the supply of adequate fund and regulators support to MFIs will offer Microfinance industry to breathing room in exchange for their efforts to reach out to customers and help them survive this crisis.

Data Source: inter net and participation note from wbinar.

S.M.Moinur Rahman Moin
Livelihood Development and Microfinance & SME
Management Expert at Development Consultant and Global Compliance Initiative (DCGCI)Bangladesh.

—–0—-

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/

প্রাচীন সঞ্চয় বনাম আধুনিক সঞ্চয় – ইশপের পিঁপড়া বনাম আধুনিক রোলস রয়েস।
ছোটবেলায় পড়া ইশপের সেই পিঁপড়ার গল্পটি তো সবারই মনে আছে। ঐ যে সারা গ্রীষ্ম ঋতুতে একটু একটু করে সঞ্চয় করে, পিঁপড়া সেই সঞ্চয় ব্যবহার করে শীত কালে যখন কোথাও কোন খাবার ছিল না।
আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ঋণের ইতিহাস যদি আমরা একটু বিশ্লেষণ করি তাহলে আমরা দেখতে পারি যে আগের দিনের সঞ্চয়ের ধারণা অনেকটা সেই পিঁপড়ার সঞ্চয়ের মতই ছিল। এর কিছু কারণ আছে। তা হল, ঐ সময়ের মূল সদস্যরা ছিলেন অতি দরিদ্র বা যাকে আমরা বলে থাকি হতদরিদ্র। সেই সময় অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্দ্যেগে এমনকি মুঠো হিসেবে চাল ও সঞ্চয় রাখতেন। যেই সঞ্চয় সেই সময়ের হত দরিদ্র মানুষদের সামান্য বিপদেও কাজে লাগত।
দিন বদলাচ্ছে এবং তা খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই সময়ের হত দরিদ্র মানুষের অনুপাত আজকের দিনে অনেক কমে যাচ্ছে। এমনকি সেই পিঁপড়ার সঞ্চয়ের মত সঞ্চয় আজকের দিনে শুধু যে বেমানান তাই নয় বরং একদিক দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য তা অসামঞ্জস্য বটে। কীভাবে তা একটা গল্পের মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করছি।
একজন খুব ধনী ব্যক্তি একবার ব্যাংক থেকে ৫০০০০ টাকা ধার নিলেন। ঐদিনই তিনি দেশের বাইরে যাবেন। তখন ব্যাংকের কর্মকর্তা তাকে বললেন যে স্যার, আপনাকে মর্টগেজ হিসেবে কিছু রেখে যেতে হবে। তিনি বললেন যে, আমি খুব জরুরি অবস্থায় আছি, ঠিক আছে আপনি আমার সাথে থাকা আমার রোলস রয়েস গাড়িটি রাখুন। ( রোলস রয়েস হল পৃথিবীর সবচাইতে দামী গাড়ির একটি, যার মুল্য প্রায় কোটি টাকা)। তো এটা মর্টগেজ রাখার পর ব্যাংকের লোকরা খুব হাসলেন যে সামান্য ৫০ হাজার টাকার জন্য এত দামী গাড়ি কেউ মর্টগেজ রাখে। ঐ ব্যক্তি যথারীতি ১০ দিন পর দেশে ফেরত এসে ৫২ হাজার টাকা দিয়ে তার গাড়ি নিয়ে গেলেন। ব্যাংকের কর্মকর্তা প্রশ্ন করলেন যে স্যার এত কম টাকার জন্য আপনি এত দামী গাড়ি রাখতে গেলেন কেন? লোকটি উত্তরে বললেন যে হুট করে আমার বাইরে যাবার দরকার ছিল, গাড়ি বাড়িতে রেখে যাবার উপায় ছিলনা। কোন সিকুরিটি কোম্পানির কাছে দিলে তারা দিন প্রতি ১০ হাজার চার্জ করত, সেই হিসেবে ১০ দিনে ১ লাখ। সেখানে আমি আপনাদের কাছে ২ হাজার টাকায় রাখতে পারলাম নিরাপদে সাথে ৫০ হাজার টাকার লোণ ও পেলাম!!!!
তো সেই পিঁপড়ার সঞ্চয়ের মত যেই সঞ্চয় আমরা এখন রাখছি সেটিকে আমরা এই গল্পের সাথে সুন্দর তুলনা করে দেখাতে পারি। সদস্যরা যারা খুব কম কম পরিমাণে সঞ্চয় রাখে এবং লোণ নেন না বললেই চলে, তারা মূলত এই সমিতির সিস্টেম টা ব্যবহার করছেন সেই ধনী ব্যক্তির মতো। কারণ তাদের এই সঞ্চয় দিতে খরচ করে ব্যাঙ্কে যাবার প্রয়োজন হয় না, মন চাইলে সঞ্চয় দেয় এবং তা যতটা না প্রয়োজনের তাগিদে বা কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার চাইতে তা দেখা যায় নিজেদের উচ্ছিস্ট অংশ নিরাপদে রাখার জন্য। যে সামান্য টাকা তার জমা হয় তা সে উঠিয়ে ফেলে হয়তো বাসায় মেহমান আসবে বা ভাল মন্দ খেতে বা শপিঙের জন্য। মাঝখান দিয়ে তার এই টাকা জমা রাখার জন্য আমার কর্মীর সময় নষ্ট, কলমের কালি নষ্ট, পোস্টিং এর সময় , হিসাব সব কিছুই নষ্ট। এত কিছুর পরেও যারা একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে সঞ্চয় জমা করেন তাদের কথা ঠিক আছে, হয়তো একটি ভাল পরিমাণ টাকা তারা জমা করেন যেই টাকা তাদেরও উপকারে লাগে এবং তা সংস্থা সমূহ তাদের বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু যারা হয়তো প্রতি সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা জমা দেন এবং তা ১০০০ হলেই উঠানোর জন্য পাগল হয়ে যান তারা মূলত এই সুন্দর সঞ্চয় সিস্টেমের সিস্টেম লস বা আপনারা তাকে বলতে পারেন ব্যাড ইফেক্টস। এতে করে না তার কোন লাভ হচ্ছে না সংস্থার। বরং সংস্থা তার জন্য যে সময় ও সম্পদ ব্যয় করছে তা পুরোটাই বাতিলের খাতায় পড়ে যায়।
আধুনিকতার এই রোলস রয়েসের যুগে যদি সেই পিঁপড়ার মত সঞ্চয় করতে থাকি আমরা তবে তা একদিক দিয়ে সদস্যর ক্ষতি এবং তা আধুনিক যুগের অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে তাল মিলাতে না পেরে তা এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

লেখক
মাহ্‌দী যুবায়ের
বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেকচারার- পৌরনীতি ও সুশাসন- ইউনুছ খান মেমোরিয়াল কলেজ, শামুরবাড়ি,লৌহজং,মুন্সিগঞ্জ।

#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/
*** আপনার লেখা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রম সঠিক দিক নির্দেশনা পাবে বলে মনে করি। ধন্যবাদ- www.learnmicrofinance.com

একবার মোল্লা নাসিরউদ্দিন রাতের বেলায় ল্যাম্প পোস্টের নিচে অনেকক্ষণ ধরে খোঁজাখুঁজি করছিলেন কিছু। এই দেখে এক প্রতিবেশী তাকে জিজ্ঞেস করল কী হারিয়েছে এবং ঠিক কোথায় হারিয়েছে। নাসিরউদ্দিন উত্তর দিলেন যে তাঁর টাকা হারিয়েছে এবং সেটা তাঁর বাগানের পিছনে। প্রতিবেশী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন যে তাহলে বাগানের পিছনে না খুঁজে তুমি ল্যাম্প পোস্টের নিচে খুঁজছ কেন? নাসিরউদ্দিন অম্লান বদনে উত্তর দিলেন, বাগানের পিছনে তো অন্ধকার। “করোনা কালের মাইক্রোফাইন্যান্স”


আমার কয়েক মাস সরাসরি মাইক্রো ফিনান্স নিয়ে ট্রেইনিং ও বাস্তব কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে যতটা বুঝতে পারি যে, মাইক্রো ফিনান্স মূলত নাসিরউদ্দিনের মতই যেখানে খোঁজা দরকার সেখানে অন্ধকারের দোহাই দেখিয়ে না খুঁজে এমন একটা পথে চলছে; যেটা করে আসলে শেষ পর্যন্ত যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এর কতটা টিকে থাকা যাবে সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। “করোনা কালের মাইক্রোফাইন্যান্স”
বাংলায় একটা বাগধারা আছে। অনিষ্টে ইষ্ট লাভ বা শাপে বর। যার অর্থ হল এমন কোন দুর্ঘটনা যেটা আদতে সুখবর নিয়ে আসে। আমার কাছে মনে হয় এই করোনাকালীন সময় আসলে মাইক্রো ফিনান্সের জন্য সেইরকমই কোন শাপে বর হতে পারে যদি না এর মেথড পরিবর্তন করে এটি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
তাহলে মাইক্রো ফিনান্স কীভাবে চলতে পারে এই সময়ে? আসুন এই বিষয় টা নিয়ে সবাই আমরা চিন্তা করি। আর চিন্তা করতে করতে আমি কী চিন্তা করছি এই বিষয়টা নিয়ে সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
এই করোনাকালীন সময়ের সবচাইতে প্রয়োজন হল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আবার মাইক্রো ফিনান্স এর মূল ভিত্তি হল মূলত বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমিতি গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা। একটা জিনিস খেয়াল করেন যে এই করোনাকালীন সময়ে সব বন্ধ হয়ে গেলেও কিন্তু ব্যাংক বন্ধ হয় নি, কারণ এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ মানুষের আর্থিক লেনদেন কিন্তু কমবেশি চলেছে।
অপরদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলেও একটা দীর্ঘ সময় মাইক্রো ফিনান্স বন্ধ ছিল। কী কারন এর পিছনে?
প্রথমে আসুন দেখি ব্যাংক এর সাথে এর মৌলিক পার্থক্য টা কোথায়। মৌলিক পার্থক্য টা হল সমিতি গঠনে। অর্থাৎ মাইক্রো ফিনান্স যে শুধু ঋণ দেয় তা নয় এর আরেকটা কাজ হল ইন্সটিটিউট বিল্ডিং করা যা সমিতির মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং এভাবে একটা কমিউনিটিকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া। এজন্যই যারা মাইক্রো ফিনান্স বা এনজিও তে কাজ করেন তাঁদের বলা হয় উন্নয়নকর্মী।
তাহলে যদি আমি এই দুর্যোগকালীন সময়ে সমিতি বাদ দিয়ে ঋণ কাজ পরিচালনা করি তাহলে যেমন মাইক্রো ফিনান্সের মৌলিক স্বকীয়তা নষ্ট হবে ঠিক তেমনি এইসময় প্রেশার দিয়ে টাকা উঠাতে গেলে এই মাইক্রো ফিনান্স তাঁর জনপ্রিয়তা তো হারাবেই এক দিক দিয়ে আবার অন্য দিক দিয়ে এর ভবিষ্যৎ হয়ে পড়বে সংকটাপন্ন।

তাহলে প্রশ্ন এসেই যায় যে সেক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি? নিচে কয়েকটা পয়েন্ট তুলে ধরে এর ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।
১) সফটওয়্যার ভিত্তিক অনলাইন সমিতি গঠন ও এর কার্যক্রম পরিচালনা।
২) অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যমে টাকা আদায় ও ঋণ প্রদান।
৩) ঋণ দেবার পূর্বে সঠিক প্রকল্প যাচাই এর জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং সেই বিশেষজ্ঞ কর্তৃক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং অবশ্যই তা অনলাইনে।
৪) একত্রে সব টাকা ঋণ না দিয়ে কিস্তি আকারে কিছু কিছু টাকা করে দেয়া যায় কিনা সেই বিষয়টা বিবেচনা করা বা ঋণ এর মেয়াদ বাৎসরিক এর পরিবর্তে প্রতি মাসে শেষ করা। (এই বিষয়টা নিয়ে পর্যালোচনার অনেক বিষয় আছে।) এবং সার্ভিস চার্জ পারলে কিছুটা কমানো।
৫) অতি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। যেসকল সদস্য করোনাকালীন সময়ে নিজেদের পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না তাঁদের জন্য অনলাইনে একটি বাজার সৃষ্টি করা ও তাঁদের পণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে সেখান থেকে লাভের একটা অংশ রাখা যেতে পারে।
৬) প্রতিটা অফিসে বিনামুল্যে কিছু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং করোনা টেস্টের বুথ স্থাপন।
৭) বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে সহায়তার জন্য অনলাইন ভিত্তিক বা সরাসরি অফিস ভিত্তিক হেল্প ডেস্ক খোলা।
৮) যে সকল সদস্য এর বাচ্চারা এই করোনা কালীন সময়ে ঠিক মত পড়াশুনার সহায়তা পাচ্ছে না তাঁদের জন্য অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
যাই হোক আমি ব্যাখায় যাবার আগে একটু কথা বলে নেই যে এই বিষয় গুলো কোনটাই পরীক্ষিত নয়, সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মতামত, আপনি এর সাথে একমত বা দ্বিমত দুইটিই পোষণ করতে পারেন। আরেকটি বিষয়, যেহেতু আমি কাজ করেছি সমন্বিত উন্নয়ন নিয়ে সেহেতু আমার প্রথম ৪ টি পয়েন্ট আর্থিক বিষয় নিয়ে হলেও পরবর্তী ৪ টি পয়েন্ট পয়েন্ট হল সমন্বিত উন্নয়ন এর উপর, তবে এই সমন্বিত উন্নয়নের যে ধারণা নিঃসন্দেহে সেটি আপনার আর্থিক কার্যক্রম কে আরও জনপ্রিয় ও গতিশীল করে তুলবে।

লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আসলে আমার লিখার স্টাইল টাই এমন, আমি গল্প করার ভঙ্গিতে লিখতে ভালবাসি। যাই হোক এতক্ষণ পর্যন্তও যদি কষ্ট করে পরে থাকেন তাহলেও আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। একটু ব্যাখ্যায় আসি তাহলে।
আমার প্রথম পয়েন্ট টা হল সফটওয়্যার ভিত্তিক অনলাইন সমিতি কার্যক্রম পরিচালনা। এখন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই অনলাইনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে লাইভ ক্লাস নিচ্ছে। আমি ফেসবুকের কথা কিন্তু এখানে বলছি না। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যার ভিত্তিক কার্যক্রমের কথা বলছি। বর্তমানে প্রায় প্রতি বাড়িতেই স্মার্ট ফোন আছে, সুতরাং সেটি তেমন কঠিন হবে না সদস্যদের কাছে আপনার তথ্য একেবারে সমিতি আকারে পৌছাতে। এই গ্লোবালাইজেসনের যুগে যদি আপনি আপনার কর্মীর হাতে একটি স্মার্ট ট্যাব দিয়েই টাকা কালেকশন করে ভাবেন যে আপনি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলছেন তাহলে বলতে হবে যে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। তবে এক্ষেত্রে সদস্যদের কানেক্ট করতে কর্মী কে ভিডিও কলের মাধ্যমে একটু কাজ করতে হবে বা স্ক্রিন শেয়ার এর মাধ্যমে ভিডিও করে একটু সহায়তা করতে পারে। এই প্রযুক্তির যুগে এসে যদি আপনি বলেন যে আপনার কর্মী এই সকল বিষয়ে এখনও দক্ষ নয় তবে আমার মনে যে মনে হয় যে ভবিষ্যৎ মাইক্রো ফিনান্সে আপনার জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হবে।
দ্বিতীয় পয়েন্ট টা খুব সহজ। এখনও কিন্তু অনেক সদস্য মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ঋণ প্রদান করে। সেক্ষেত্রে এই বিষয়টা মাথায় রেখে ব্যাংকের মত কোন মোবাইল অ্যাপ বা এরকম কোন মাধ্যম ব্যবহার করে টাকা আদায় এবং ঋণ প্রদান করতে হবে। এতে একইসাথে অনলাইন ডকুমেন্ট থাকবে এবং দূরবর্তী অবস্থানে থেকেও কার্যক্রম করা সম্ভব। এতে করে অবশ্য আইটি দায়িত্বে যিনি থাকবেন তাঁর কাজ বৃদ্ধি পেতে পারে।
তৃতীয় পয়েন্ট টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এইসময় অনেকেই ঋণ চাবে। আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে অনেকবার বলতে গেলে বেশিরভাগ সময় প্রকল্প ছাড়াও ঋণ দেওয়া হয় যাতে করে বকেয়া বেশি পরে। এই সময় সদস্যের সেই চিন্তা টা হতে পারে। সেক্ষেত্রে হেড অফিসে বিভিন্ন প্রকল্পের উপর বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর প্রকল্প যাচাই করে পরে ঋণ দিতে হবে যাতে এই সময় ঝুঁকি কম থাকে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মী কে পূর্বেই সামাজিক যোগাযোগ মেনে খোঁজ নিয়ে আসতে হবে যে উনি যে প্রকল্প দেখাচ্ছেন সেটি সত্যিকার অর্থেই উনার। এবং অবশ্যই ভিডিও কনফারেন্সে সেই কর্মীও যুক্ত হবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য বিশেষজ্ঞ দের দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে পারে প্রতিষ্ঠান।
চতুর্থ পয়েন্ট টা অনেক বেশি বিতর্ক মুলখতে পারে। তবে আমাদের বর্তমান অবস্থানে এমন অনেকেই আছেন যারা একত্রে বেশি টাকা নিয়ে তা হয়তো বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নষ্ট করে ফেলতে পারেন এবং বকেয়া ফেলতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাকে কিস্তি আকারেই একটু একটু করে ঋণ দিয়ে ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করা যায় কিনা সেই বিষয়টা বিবেচনা করা যেতে পারে। আবার ঋণের মেয়াদ বাৎসরিক এর পরিবর্তে মাসিক করতে পারে। কারণ এতে করে একটু একটু করে তাঁর টাকার পরিমাণ ও বাড়ানো যেতে পারে। তবে বিষয়টা অবশ্যই তর্কযোগ্য ও আলোচনা সাপেক্ষে করতে হবে।
পঞ্চম পয়েন্ট টি মূলত বাজার সৃষ্টি করা নিয়ে। এতে করে প্রতিষ্ঠান সদস্য এর মাধ্যমে নিজেও ব্যবসা করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য যা লাভজনক হতে পারে। অবশ্যই এধরণের প্রতিষ্ঠানের উচিত এসকল বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। এতে করে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে তাঁদের সফল মুল্য পেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন বাজারে ঢুকা ভাল।
ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম এই ৩ টি পয়েন্ট নিয়ে একেবারেই বলব। কারণ ৩ টি পয়েন্ট হচ্ছে সমন্বিত উন্নয়নের সাপেক্ষে যেটি কিনা একটি নতুন ধারণা এবং যেটি ব্যাংক থেকে এনজিও কে পৃথক করে থাকে। কেন শুধু শুধু গ্রাহক এতগুলো ব্যাংক থাকতে আপনার সেবা নিবে যদি না আপনি তাঁদের স্পেশাল কচিহু দেন। এই প্রোডাক্ট গুলো তাঁদের কাছে জনপ্রিয়তা পাবার জন্য শুধু নয় একই সাথে এটি প্রমাণ করবে যে উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে মাইক্রো ফিনান্স শুধু নেয় তা নয় যথেষ্ট ফেরত ও দেয়। এবং এই প্রোডাক্ট গুলো কোন রকম সন্দেহ ছাড়া আপান্র আর্থিক কার্যক্রম কে গতিশীল করবে।
লিখা শেষ। সবাই ৫ মিনিট একটু ভাবুন চোখ বন্ধ করে আমার লিখাটা নিয়ে। আপনার চিন্তার জগতে যদি এতটুকু নাড়া দিতে পারে এই লিখা তাহলেই এই কষ্ট সার্থক। ভালো থাকুন।

মাহ্‌দী যুবায়ের,

বিএসএস, এমএসএস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

“লেখা আহবান” বিষয়- বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রম । এনজিও, এমএফআই এবং সদস্যগন দিকনির্দেশনা পায় এমন মৌলিক লেখা হতে হবে। www.learnmicrofinance.com
এ পাবলিশ করা হবে, লেখক পরিচিতি সহ । লেখার শুরুতে আপনার সম্পর্কে
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে এবং নিজের ছবি সংযুক্ত করুন যদি আপনার ছবি প্রকাশ করতে চান।
নিম্নে উল্লেখিত ই-মেইলে লেখা পাঠাতে হবে –
learnaboutmicrofinance@gmail.com
#মাইক্রোফাইস্যান্স বেসিক বিষয়গুলো জানতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/microfinance-basics/
#চাকুরী বিজ্ঞপ্তি পেতে ভিজিট করুন- https://learnmicrofinance.com/jobs/
অন্যান্য বিষয় জানতে ভিজিট করুন-
https://learnmicrofinance.com/blog/
*** আপনার লেখা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রম সঠিক দিক নির্দেশনা পাবে বলে মনে করি। ধন্যবাদ- www.learnmicrofinance.com

এনজিও ঋণের কিস্তি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঐচ্ছিক । বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারনে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর- 2020 পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় ঐচ্ছিক করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঋণী কে কিস্তি প্রদানে বাধ্য করা যাবে না। ঋণী নিজ ইচ্ছায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করলে তা নিতে কোনো বাধা থাকবে না।  কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তিকে বকেয়া বা খেলাপি দেখানো যাবে না।

ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমআরএ এই বিষয়ে সকল নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলার মতে ঋণ বিতরণ, সঞ্চয় আদায়/ ফেরত, ত্রাণ বিতরণ, রেমিটেন্স ও সামাজিক কার্যক্রম চলমান থাকবে। কমচারী/কর্মকর্তাদের বেতন প্রদানের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি সাকুর্লার টি দেখুন-

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত হলো, ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে সীমিত যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রেনও চলবে। আজ বুধবার রাতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এই নির্দেশনা দিয়েছেন। গণপরিবহনে কতজন যাত্রী চলবে, তা ঠিক করবে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩০ মে ছুটি শেষ হচ্ছে। এরপর নাগরিক জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিক কমকাণ্ড এবং অফিস-আদালত সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থায় সীমিত আকারে খুলতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী কর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৩ দফা মানতে হবে।

এনজিও,ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা (এমএফআই) যারা পাচ্ছেন সরকার প্রদত্ত ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল। বিস্তারিত থাকছে আজকের প্রতিবেদনে। তথ্য সূত্র- এমআরএ, বাংলাদেশ ব্যাংক।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২৪ টি এমএফআই ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ৩ শতাংশ ঋণ পাবে এসব সংস্থা। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্থ নিম্ন আয়ের পেশাজীবি, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রথমবারের মতো কম সুদে ঋণের সুযোগ পাবেন। এনজিও,ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাদের (এমএফআই) ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে অর্থ নিতে চুক্তি করেছে সরকারি-বেসরকারি ১৯টি ব্যাংক।

এ তহবিলের টাকা কিভাবে ব্যবহার হবে, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, শুধু এমএফআই বা এমএফআইয়ের সমিতিভুক্ত সদস্যরা এ ঋণ নিতে পারবে। আর এমআরএ অনুমোদনের বাইরে কোন এমএফআই  ঋণ পাবে না।

যে সকল এনজিও,ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা (এমএফআই) কম সুদে ঋণ দেবে

৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যে সকল এনজিও,ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা (এমএফআই) তারা হলো – আম্বালা ফাউন্ডেশন, আশ্রয়, খ্রিস্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটি, কোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সোস্যাল ট্রান্সফরমেশন, দু:স্থ স্বাস্থ কেন্দ্র (ডিএসকে), গ্রাম উন্নয়ন কর্ম, জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন, মমতা, মানবিক সাহায্য সংস্থা, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, পিপলস ওরিয়েন্টেডে প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি), রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার, রুরাল রিকন্সট্রাকশন ফাউন্ডেশন, সোসাইটি ফর ডেলেলমমেন্ট ইনশিয়েটিভ(এসডিআই) ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন। এসব এমএফআই সবাই ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করেছে। 

ওয়ান ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করেছে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র, সেতু ও সোসিও ইকোনোমিক হেলথ এডুকেশন ওর্গানাইজেস। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে আবেদন করেছে সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। সাউথইস্ট ব্যাংকের আবেদন করেছে গ্রামীন মানবিক উন্নয়ন সংস্থা, সাতক্ষীরা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, সোসিও ইকোনোমিক ব্যাকিং অ্যাসোসিয়েশন(সেবা)। এছাড়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে ঋণ পেতে আবেদন করেছে সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এসিস্টটেন্ট।

সূত্র- দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদন-