সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত হলো, ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে সীমিত যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রেনও চলবে। আজ বুধবার রাতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এই নির্দেশনা দিয়েছেন। গণপরিবহনে কতজন যাত্রী চলবে, তা ঠিক করবে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩০ মে ছুটি শেষ হচ্ছে। এরপর নাগরিক জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিক কমকাণ্ড এবং অফিস-আদালত সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থায় সীমিত আকারে খুলতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী কর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৩ দফা মানতে হবে।

ছুটির মেয়াদ ৩০ মে 2020 পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে সাত দফায় ছুটি বাড়ছে। ছুটির মধ্যে শবে কদর, ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটিরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঈদের ছুটিতে সবাইকে যার যার অবস্থানে থাকতে হবে। যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঈদের আগের ৪ দিন এবং পরের ২ দিন মোট ৭ দিন যানবাহন চলাচল কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে ছয় দফায় ছুটি বাড়ছে। আজ শনিবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছুটির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তাঁরা অবশ্য ১৫ মে পর্যন্ত প্রস্তাব করেছেন। তবে পরদিন শনিবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে আগামীকাল বা পরদিন সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেন ছড়িয়ে না পড়ে- সেটি প্রতিরোধে সরকারের নির্বাহী আদেশে পাঁচ দফায় আগামী ৫ মে পর্যন্ত দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এবার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ষষ্ঠ দফায় ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলো।

গত কদিনে সারাদেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এখন প্রতিদিনই গড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে পাঁচশ রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ আবারো বাড়াচ্ছে।

কৃষি ঋণের সাধারণ সুদহার ৯ শতাংশ, এর ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কৃষকের সুদ কমে হবে ৪ শতাংশ। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।

 এর আগে ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকের জন্য দেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সুদহার হবে ৪ শতাংশ। ওই তহবিল থেকে চলতি মূলধন পাবে মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মাছ চাষ, পোলট্রি ও ডেইরি এবং প্রাণিসম্পদ খাত। তবে শস্য ও ফসল খাত এর বাইরে ছিল। এ ছাড়া আগে থেকে আমদানি বিকল্প ফসল, ডাল, তেলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষের জন্য ৪ শতাংশ সুদে কৃষকেরা ঋণ পাচ্ছেন।

করোনাভাইরাসের কারণে এখন থেকে আমদানি বিকল্প এসব ফসলের পাশাপাশি ধান, গমসহ সব দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি ও কন্দাল ফসল চাষের জন্যও ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারে ঋণ পাবেন কৃষকেরা। এখন কৃষির প্রায় সব খাতই ৪ শতাংশ ঋণের আওতায় এল।


ধান, গম, আলু, ভুট্টাসহ সব ধরনের শস্য ও ফসল উৎপাদনে ঋণের সুদহার ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ঋণের পাশাপাশি আগের ঋণেও এই রেয়াতি সুদহার কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ সোমবার এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

স্কুলসহ আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটাও খুলবে না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ সবকিছু বন্ধ থাকবে। দেখা যাক করোনাভাইরাস কী হয়। যখন এটা থামবে তখন আমরা খুলব।

এই ভিডিও কনফারেন্সে বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী এবং সিরাজগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও পু‌লিশ বা‌হিনী, সি‌ভিল সার্জন, নার্স, রাজনৈ‌তিক ব‌্য‌ক্তি, সেনাসদস‌্য, মস‌জিদের ইমাম, শিক্ষকসহ বি‌ভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে করোনা প‌রি‌স্থি‌তি ও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে মত‌বি‌নিময় করছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর প্রকৃত প্রজ্ঞাপনটি দেওয়া হলো :

বিভিন্ন কথাতে বিভ্রান্ত না হয়ে সরাসরি প্রজ্ঞাপনটি দেখুন এবং শেয়ার করে অন্যকে দেখতে সহায়তা করুন।

আজ বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান , ছুটি বৃদ্দি পেয়েছে ৫ মে 2020 পর্যন্ত, ছুটির সঙ্গে নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করছে সরকার।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে পাঁচ দফায় ছুটি বাড়ল।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি চলছে।

ছুটির সঙ্গে নির্দেশনা জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর প্রকৃত প্রজ্ঞাপনটি দেওয়া হলো:

সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হয়েছে । করোনাকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী টানা ছুটি চলছে। এর মধ্যে তিন দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে। (10.04.2020) তারিখের প্রজ্ঞাপন এর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে – জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বের হওয়া যাবে না- তা উল্লেখ করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। পূর্বের প্রজ্ঞাপনে ৬ টার পর বের হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা থেকে কয়টা পর্যন্ত বের হওয়া যাবে না তা উল্লেখ ছিল না।

অন্যদিকে জনপ্রশাসনের আগের প্রজ্ঞাপনে সাংবাদিকদের বিষয়ে শুধু ‘সংবাদপত্র’ উল্লেখ করা হয়েছিল। এখানে ‘গণমাধ্যম’ (ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া) শব্দটি যোগ করা হয়েছে। যাতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স সব গণমাধ্যমকেই বুঝানো হয়েছে।

সরকার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সাধারণ ছুটি ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ২৪ ও ২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। প্রথম দফায় ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নয় দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করলে সরকার ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় ৭ দিন বাড়ায়। এরপর তৃতীয় দফায় সরকার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। চতুর্থ দফায় আগামী ১৫-১৬ সাধারণ ছুটির আওতায় নিয়ে ১৭-১৮ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি তার সঙ্গে আরও ৫ দিন অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি করতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে ২৪ ও ২৫ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে।

তথ্য সূত্র:- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।